বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিল প্রদেশ কংগ্রেস। প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে পুরনো কংগ্রেসি নেতাদের ‘ঘর ওয়াপসি’র আহ্বান জানিয়ে হাত শিবির স্পষ্ট বার্তা দিল— কংগ্রেসের আদর্শে বিশ্বাসী এবং অতীতে কংগ্রেসে থাকা নেতাদের জন্য দলের দরজা খোলা। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, এই বার্তার পরিধি কি শুধুই তৃণমূলের প্রাক্তন কংগ্রেসি মুখদের জন্য, নাকি তার ইঙ্গিত আরও উপরের স্তরেও?
প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, যাঁদের রাজনৈতিক পথচলা কংগ্রেস থেকে শুরু, যাঁরা বিভিন্ন সময়ে পরিস্থিতির চাপে বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে অন্য দলে গিয়েছেন, তাঁদের ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে। এই আহ্বানকে সামনে রেখেই নতুন রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।


বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর জাতীয় স্তরে বিরোধী ঐক্যের প্রশ্নে কংগ্রেস নেতৃত্ব ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় ছিল। বিজেপির বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ের বার্তাও উঠে আসে। সেই আবহে ভবিষ্যতে কংগ্রেস ও তৃণমূলের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মমতা সরাসরি সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিয়ে বিষয়টিকে ‘ভবিষ্যতের কৌশলগত প্রশ্ন’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
এরপরই প্রদেশ কংগ্রেসের নতুন বার্তা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাজ্য পর্যবেক্ষক গুলাম আহমেদ মীর বলেন, কংগ্রেসে যাঁদের রাজনৈতিক জন্ম ও বেড়ে ওঠা, তাঁদের জন্য দলের দরজা খোলা থাকবে। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইকে কংগ্রেস এখন বৃহত্তর রাজনৈতিক লড়াই হিসেবে দেখছে এবং সেই লড়াইয়ে পুরনো কর্মী-নেতাদের ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কংগ্রেস নেতৃত্ব আরও জানিয়েছে, সম্ভাব্য যোগদানকারীদের নিয়ে একটি আলাদা কমিটি তৈরি হবে। সেই কমিটি যাচাই করবে কারা দলে আসতে পারবেন। কংগ্রেসি আদর্শে বিশ্বাসী নেতাদের স্বাগত জানানো হলেও দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা বিতর্কিত ভাবমূর্তির অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আলাদা মূল্যায়নের প্রক্রিয়া থাকবে।


অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, তৃণমূলের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ, স্থানীয় স্তরে ভাঙনের অভিযোগ এবং বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণ— সব মিলিয়ে এই আহ্বান শুধু সাংগঠনিক নয়, প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। এখন নজর থাকবে, এই ‘ঘর ওয়াপসি’ ডাক আদৌ বাস্তবে কোনও বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করে কি না।



