পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, এতদিন স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় থাকা প্রায় ৬ কোটি মানুষকে এবার কেন্দ্রীয় আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে নতুন আবেদনকারীদের জন্যও স্বাস্থ্যবিমার দরজা খুলে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।
শনিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নতুন রোডম্যাপ তৈরি করেছে রাজ্য সরকার। তাঁর অভিযোগ, পূর্বতন সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সঙ্গে সমন্বয় না করায় বহু মানুষ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। নতুন সরকার সেই পরিস্থিতি বদলাতে উদ্যোগী হয়েছে।


মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আয়ুষ্মান ভারতের এনরোলমেন্ট ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে এবং জুলাইয়ের মধ্যে কার্ড বিলির কাজ শুরু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। শুধু স্বাস্থ্যসাথীর বর্তমান উপভোক্তারাই নন, যাঁরা আগে কোনও স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, তাঁরাও নতুন করে আবেদন করতে পারবেন।
তিনি আরও জানান, জুনের প্রথম সপ্তাহে দিল্লিতে আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে কেন্দ্র ও রাজ্যের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি রাজ্যের বাইরে থাকা প্রায় এক কোটি বাংলার বাসিন্দাও এই স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা পাবেন বলে দাবি করেন তিনি।
স্বাস্থ্য পরিষেবার বিস্তারে আরও একাধিক ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে শুরু হবে সার্ভাইক্যাল ক্যানসার প্রতিরোধী টিকাকরণ কর্মসূচি। ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সি কিশোরীদের জন্য আগামী ৩০ মে থেকে এই উদ্যোগ শুরু করার কথা জানানো হয়েছে। একই দিনে টিবি-মুক্ত ভারত কর্মসূচির ওয়ার্কশপও শুরু হবে বলে ঘোষণা করা হয়।


ওষুধের খরচ কমাতে পশ্চিমবঙ্গে ৪৬৯টি প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং বহু ওষুধে বড় অঙ্কের ছাড় মিলবে।
এছাড়া রাজ্যের প্রতিটি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ তৈরির লক্ষ্যও সামনে আনা হয়েছে। বর্তমানে আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, আসানসোল ও দক্ষিণ দিনাজপুরে মেডিক্যাল কলেজ না থাকায় প্রয়োজনীয় জমি ও প্রস্তাব কেন্দ্রকে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে। উত্তরবঙ্গে নতুন এমস গড়ার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সাংবাদিক বৈঠকে শিশুমৃত্যুর হার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, কয়েকটি জেলার রিপোর্ট বিশেষভাবে চিন্তার। একই সঙ্গে তিনি জানান, চলতি অর্থবর্ষে স্বাস্থ্যখাতে পশ্চিমবঙ্গের জন্য কেন্দ্র ২১০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে এবং তার একটি অংশ ইতিমধ্যেই রাজ্যের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। সরকারের আশা, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই পরিবর্তনের প্রভাব সাধারণ মানুষ অনুভব করতে শুরু করবেন।



