নজরবন্দি ব্যুরোঃ উদ্বেগজনক করোনা পরিস্থিতিতে টীকা, অক্সিজেনের দাবি নিয়ে মোদীকে চিঠি মমতার। গোটা দেশের মতই রাজ্যের করোনা পরিস্থিতিও ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে একাধিক দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীকে লেখা সেই চিঠিতে ভ্যাকসিন জোগান বাড়ানো এবং নিয়মিত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে করোনার চিকিত্সায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেমডেসিভির জোগান বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুনঃ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক, শোকস্তব্ধ ভাঙড়।


তিনি দ্বিতীয় দাবিতে জানিয়েছেন, রাজ্যের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ রেমডিসিভিরের সরবরাহ যেন নিয়মিতভাবে বজায় রাখা হয়। তৃতীয় দাবিতে জানানো হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব রাজ্যের প্রয়োজনমতো অক্সিজেন সরবরাহ করুক কেন্দ্র। করোনা মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্যে সমন্বয়ের কথা বারবার বলেন প্রধানমন্ত্রী। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট লিখেছেন, “কলকাতার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত হারে এবং নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী টিকাকরণ চালানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ভ্যাকসিনের সরবরাহ অপর্যাপ্ত এবং অনিয়মিত। যার ফলে আমাদের রাজ্যের টিকাকরণ কর্মসূচিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আমাদের আরও ২.৭ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দিতে হবে, তার জন্য ৫.৪ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন প্রয়োজন। রাজ্য যাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভ্যাকসিন পায়, তার জন্য অবিলম্বে আপনাকে হস্তক্ষেপ করতে অনুরোধ করছি।”
এরপর কেন্দ্র রাজ্য সমন্বয়ের কথা মনে করিয়ে তিনি বলেন “করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে ৩টি নির্দিষ্ট বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। আপনার হয়তো মনে থাকবে ২৪ ফেব্রুয়ারি আমি আপনাকে চিঠি লিখে রাজ্যের জন্য ভ্যাকসিন কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। আমরা রাজ্যজুড়ে টিকাকরণ কর্মসূচি চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে এখনও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়নি। এর মধ্যে রাজ্যের করোনা সংক্রমণ ফের বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রচারে বহিরাগতদের আগমনে পরিস্থিতি আরও কঠিন হচ্ছে।” চিঠিতে তাঁর অভিযোগ “করোনার চিকিত্সায় প্রয়োজনীয় দুই ওষুধ রেমডেসিভির এবং টোসিলিজুমাবের সঙ্কটও তৈরি হচ্ছে রাজ্যে। দৈনিক রাজ্যে রেমডিসিভির-এর ৬ হাজার ভায়াল এবং টোসিলিজুমারের ১ হাজার ভায়াল প্রয়োজন। সেখানে রাজ্যের হাতে এই মুহূর্তে রেমডেসিভির-এর মাত্র ১০০০ ভায়াল রয়েছে। আর টোসিলিজুমার নতুন করে সরবরাহ করা হচ্ছে না।”
উদ্বেগজনক করোনা পরিস্থিতিতে টীকা, অক্সিজেনের দাবি নিয়ে মোদীকে চিঠি মমতার। এই দু’টি ওষুধেরই সরবরাহ অবিলম্বে শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাতে উদ্যোগী হয়, সেই অনুরোধও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রসঙ্গত কেন্দ্রের ভ্যাকসিন না দেওয়ার কথা একাধিক জনসভায় বারবার বলছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে ক্রমশ ভয়ানক চেহারা ধারণ করছে করোনা। আর সেই সময় কেন্দ্রের সহযোগিতা না মেলায় চিঠিতেই প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি নিজের দাবিও পেশ করেছেন মমতা। করোনা পরিস্থিতি ভয়ানক হওয়ায় আগেই একাধিক দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। কিন্তু পিএমও থেকে সেই চিঠির কোনও উত্তর আসেনি। যার প্রেক্ষিতে খোঁচা মেরে উদ্ধব ঠাকরে জানান, “প্রধানমন্ত্রী বাংলার প্রচার নিয়ে ব্যস্ত, তাই উত্তর দেননি।” এখন দেখার মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি পেয়ে আদৌ কোন ব্যবস্থা নেয় কিনা প্রধানমন্ত্রী।









