নজরবন্দি ব্যুরোঃ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক, শোকস্তব্ধ ভাঙড়। ভাঙড় এবার নান্নুহারা। চলে গেলেন ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী রেজাউল করিমের নির্বাচনী এজেন্ট তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা নান্নু হোসেন। বামেদের এক সময়ের শক্ত ঘাঁটি ভাঙড়ে জোড়াফুল ফোটাতে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম নান্নু।
আরও পড়ুনঃ কৃষ্ণনগরের সভায় করোনা নিয়ে বিজেপিকে আক্রমনের সাথে নিজের পায়ের অবস্থা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পরিবার সূত্রে খবর, শনিবার রাতে আচমকাই বুথে ব্যথা ও প্রবল শ্বাসকষ্ট শুরু হয় নান্নুর। রাতেই কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। রবিবার ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ মৃত্যু হয় তাঁর। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী রেজাউল করিমের নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ভাঙড়ের রাজনৈতিক মহলে। ভাঙড়ের রাজনীতিতে নান্নু হোসেন একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম । ১৯৮৮ সালে কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতিতে আসা তাঁর।
যে সময়ে ভাঙড়ে একচেটিয়া সিপিএমের রাজত্ব ছিল, সেই সময় ২০০৬ সালে ভাঙড়ের মাটিতে ঘাস ফুল ফোটায় আরাবুল ইসলাম-নান্নু হোসেন জুটি। পরবর্তী সময়ে আরাবুল ইসলাম বিধায়ক হন। এরপর, আরাবুলের সঙ্গে বেশ কিছু বিষয়ে মনোমালিন্য তৈরি হয় নান্নু হোসেনের। এরপর ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়েন নান্নু হোসেন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে লড়েন আরাবুল ইসলাম। ১০,৩৬৩টি ভোটে আরাবুলকে হারিয়ে দেন নান্নু হোসেন। নির্দলের টিকিটে লড়েও দল ছাড়েননি নান্নু হোসেন। পরবর্তীতে জেলা পরিষদের সদস্যও হন তিনি। ভাঙড়ের রাজনীতিতে বরাবর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা করেছেন তিনি। এবারের নির্বাচনেও প্রার্থী হওয়ার দাবি রাখলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টিকিট দিয়েছিলেন রেজাউল করিমকে। রেজাউলের নির্বাচনী এজেন্ট হন নান্নু হোসেন।
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক, শোকস্তব্ধ ভাঙড়। তাঁর অনুগামীরা জানান, “দাদাকে সব সময় ফিটই দেখেছি। উঁচু লম্বা বলিষ্ঠ একজন মানুষ। আচমকাই বুকে ব্যথা হল। আর ভোরে সব শেষ।” দলের কর্মঠ ও অনুগত এক সৈনিককে হারিয়ে শোকস্তব্ধ তৃণমূলও। অন্যদিকে ভাঙড়ের প্রশ্ন চার দাপুটে নেতার একজন চলে যাওয়ায় এবার কি তবে দ্বন্দ কমবে বাকি তিন দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতার?



