প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর (Adhir Ranjan Chowdhury) সঙ্গে রাজ্যের শাসক দলের সংঘাত যেন ক্রমেই বাড়ছে। অধীরের বিরূপ মন্তব্যের কারণেই বাংলায় কংগ্রেসের সাথে আসন সমঝোতা করতে রাজি নন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এবার বহরমপুর কেন্দ্রে অধীরকে হারাতে ব্লুপ্রিন্ট তৈরি ঘাসফুলের। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাজি কে হতে চলেছেন?
আরও পড়ুন: সংবিধান লাগু হওয়ার ৬ মিনিট পর ভারত পায় প্রথম রাষ্ট্রপতি, জানুন সেই অজানা তথ্য


১৯৯৯ সাল থেকে বহরমপুর (Baharampur) কেন্দ্র থেকে জিতে আসছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁকে এই এলাকার ‘রবিনহুড’-ও বলা হয় রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূল ঝড়ের মধ্যেও নিজের আসন আজ অবধি ধরে রেখেছেন অধীর (Adhir Ranjan Chowdhury)। শুধু তাই নয়, ২০১৪ সালে রাজ্যে সর্বাধিক ভোটে জেতেন তিনি। ৩,৫৬,৫৬৭ ভোটে ইন্দ্রনীল সেনকে হারিয়েছিলেন অধীর।

২০১৯ সালে আবার রাজ্যে বিজেপির হাওয়া দেখা যায়। ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টি জেতে গেরুয়া দল। সেখানেও বহরমপুরে (Baharampur) কিন্তু অধীরকে (Adhir Ranjan Chowdhury) হারাতে পারেনি কেউ। তৃণমূলের অপূর্ব সরকারকে ৮০, ৬৯৬ ভোটে হারান তিনি। এই অপূর্বকেই আবার ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অপূর্ব সরকারকে কংগ্রেস হাইকমান্ডের বিরুদ্ধে গিয়ে নির্দল প্রতীকে জিতিয়েছিলেন অধীর।



এবারের আসন্ন লোকসভায় অবশ্য ছবিটা অন্যরকম। দেশজুড়ে বিজেপি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ গড়ে উঠেছে। যদিও আসন সমঝোতা এখনও হয়নি। আর এই আসন সমঝোতা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতণ্ডা। দেশজুড়ে কংগ্রেসকে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে বলে আঞ্চলিক দলকে নিজের রাজ্যে স্বাধীনভাবে লড়তে দেওয়ায় আর্জি জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
কিন্তু, মমতার অভিযোগ, কংগ্রেস সে দাবি মানেনি। কারণ, অধীর (Adhir Ranjan Chowdhury) বা বঙ্গ কংগ্রেসের অনেক শীর্ষনেতাই নিজেদের আসন ছাড়তে চান না। তাছাড়া যে সংখ্যক আসন তৃণমূল ছাড়তে চায় সেখানেও মত নেই অধীরের। আর তাতেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলায় স্বাধীন ভাবে লড়তে চাইছে তৃণমূল। দেশজুড়েও জোটের সম্ভাবনা প্রায় ক্ষীণ।
বহরমপুরে অধীরকে হারাতে প্ল্যান তৈরি তৃণমূলের, মমতার বাজি কে?

এমতাবস্থায় বহরমপুরে (Baharampur) অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে (Adhir Ranjan Chowdhury) হারাতে বদ্ধপরিকর তৃণমূল। বহরমপুরে তৃণমূলের বাজি হতে পারেন কান্দির বিধায়ক তথা বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার এবং বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভানেত্রী শাওনি সিংহ রায়। এই অপূর্ব অধীরের কাছে যদিও হেরেছেন ২০১৯ লোকসভায়।
এদিকে, আবার, ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর দাবি করেছেন, তিনি অধীরকে ২ লক্ষ ভোটে হারাতে পারেন। এখন, অধীরের (Adhir Ranjan Chowdhury) বিরুদ্ধে কাকে টিকিট দেবে তৃণমূল সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। আবার জোট গঠন হলে কি বহরমপুর (Baharampur) অধীরকে ছেড়ে দেবেন মমতা, প্রশ্ন থাকবে সে নিয়েও।







