নজরবন্দি ব্যুরোঃ কলকাতা পুরভোটে বিজেপিকে পিছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বামেরা। এই সুযোগে গা ছাড়া মনোভাব একেবারেই চাইছেন না বাম নেতারা। সেটা আরও ভালো বুঝেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। বড়দিনের পরেই পাম অ্যাভিনিউ থেকে ফোন শিলিগুড়িতে। ফোনের ওপারে রাজ্যের প্রাক্তন পুরমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, পুরভোটে লড়তে হবে অশোক ভট্টাচার্যকে এবং দলকেও জেতাতে হবে।
আরও পড়ুনঃ উদয়নকে তালগাছের ব্যাখা দিলেন রবীন্দ্রনাথ, কোচবিহারে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে


বিধানসভা ভোটে শিলিগুড়ি কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হয়েছিলেন বর্ষীয়ান সিপি(আই)এম নেতা। কিন্তু দলের ব্যাপক বিপর্যয় এবং তাঁর খারাপ ফলাফলের পরে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আর নির্বাচনে লড়াই করবেন না। বরং মেন্টর হিসাবে কাজ করছেন। কিন্তু কলকাতার পুরভোট এবং বিধানসভা উপনির্বাচনে লাল পতাকার ফলাফল রাজ্য নেতাদের আলাদা করে অক্সিজেন জুগিয়েছে। তাই এই সুযোগ হাতছাড়া করতে নারাজ বাম শিবির। বরং আরও একবার সামনের সারীতে অশোক ভট্টাচার্যের মতো নেতাকে রেখেই লড়াই করতে চায় আলিমুদ্দিনের নেতারা। শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র রাজি তখনও ছিলেন না। কিন্তু বুদ্ধবাবুর ফোন তাঁকে যেন একপ্রকার বাধ্যই করল।

অশোকবাবু নিজে জানিয়েছেন, বুদ্ধবাবু ফোন করেছিলেন। শিলিগুড়িতে আবার জিততে হবে এই কথা জানিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর শরীরের খোঁজ নিয়েছেন তিনি। এছাড়াও দলীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যদিও এটা নতুন কিছু নয়, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ছিলেন অশোক ভট্টাচার্য। সামলেছেন দার্জিলিং জেলা সহ উত্তরবঙ্গের সাংগঠনিক দায়িত্বও। কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ভোট দিতে যেতে পারেননি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বয়সের ভার তাঁকে অচল করলেও মনের অদ্যম জোর তাঁকে সাংগঠনিক পরামর্শদাতা হিসাবে দূরে রাখতে পারেনি।


বুদ্ধের ফোন অশোককে, সংগঠন মজবুত করার বার্তা দিলেন

প্রসঙ্গত, কলকাতা হাইকোর্টে দেওয়া হলফনামায় নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে ২২ জানুয়ারি শিলিগুড়ি পুরসভার নির্বাচন। নির্বাচনের প্রাক মুহুর্তে তৃণমূলের মুখ নিয়ে গোষ্ঠিদ্বন্দ্ব লেগেই রয়েছে। গৌতম দেবকে সামনে রেখেই লড়াইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে ঘাসফুল শিবিরের। বিজেপির হয়ে মুখ হতে পারেন বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তবুও পুরানো দুর্গ ছাড়তে নারাজ বামফ্রন্টও। তাই শিলিগুড়ি নির্বাচনে অশোক ভট্টাচার্যকে প্রধান মুখ করেই লড়াইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। এরই মধ্যে বুদ্ধের ফোন অশোককে সেই পরিকল্পনায় অনুঘটক হয়ে কাজ করল।







