অর্ক সানা, সম্পাদক (নজরবন্দি): SIR প্রয়োগ শুরু হতেই রাজ্যের বিভিন্ন বর্ডার পয়েন্টে দেখা যাচ্ছে অস্বাভাবিক ভিড়। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী দলে দলে সীমান্তে ফিরে আসছেন। বিএসএফ সূত্রে প্রকাশ—প্রতিদিন গড়ে ১৭০ জন অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। তাঁদের অনেকের কাছেই মিলছে ভারতীয় Aadhaar Card, Voter ID, এমনকি ব্যাঙ্কের ডকুমেন্টও। প্রশ্ন উঠছে—যারা বৈধ কাগজপত্রই পায়নি, তারা কীভাবে বছরের পর বছর ভারতীয় নথি পেল?
এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটিই প্রশ্ন:
“BSF কি ঘুমোচ্ছিল? এত বাংলাদেশি ভারতে ঢুকল কিভাবে?”
SIR আতঙ্কে ভিটেমাটি ছেড়ে বাংলাদেশে ফেরার ব্যস্ততা যেমন স্পষ্ট, তার থেকেও স্পষ্ট প্রশ্ন—সীমান্ত সুরক্ষা কি ব্যর্থ হয়েছে?
অনুপ্রবেশকারীদের বিস্ফোরক দাবি
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে অনুপ্রবেশকারীরা বলছেন—
“৫ হাজার টাকা দিলেই দালালরা আমাদের বর্ডার পার করিয়ে দেয়।”
এই স্বীকারোক্তি আরও বড় প্রশ্ন তৈরি করছে—দালালরা কি একা কাজ করছে? নাকি কেউ ভিতর থেকে “চোখ বুজে থাকার প্রশ্রয়” দিচ্ছে?
কয়েকজনের হাতে আধার পাওয়া গেছে। আবার কেউ দাবি করেছেন—
“দালালরা টাকা নিয়ে কাগজও বানিয়ে দিতো।”
একদিকে কেন্দ্রীয় সরকার কঠোর অভিবাসন নিয়ে ভাষণ দেয়, অন্যদিকে বছরের পর বছর ধরে হাজারো বাংলাদেশি পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, কেরল, পাঞ্জাব থেকে কাজ করছে।
তাহলে এই মানুষগুলো ঢুকল কীভাবে?
BSF-র দায় এড়ানো যায় কি?
BSF দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তরক্ষী বাহিনী। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী—দালালের মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত ঢুকেছে। কেউ কি বলতে পারবেন—জঙ্গি বা অস্ত্র পাচারকারীরা একই পথে ঢোকেনি?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দায়িত্ব কি শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকা?
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কি এই প্রশ্ন করা হবে না—সীমান্ত সুরক্ষায় এই ব্যর্থতার দায় কার?
বড় মিডিয়ার নীরবতা আরও বড় প্রশ্ন
এই ঘটনা নিয়ে বাংলার চ্যানেলগুলি দিনরাত রিপোর্ট করছে। কিন্তু সর্বভারতীয় মিডিয়ার বাংলা ভার্সানগুলির স্টুডিও শুধু রাজনৈতিক তর্কে মত্ত।
কেউ প্রশ্ন করছে না—
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন চুপ?
BSF-এর বিরুদ্ধে কেন তদন্ত হচ্ছে না?
সীমান্ত সুরক্ষায় এত বড় ব্যর্থতা ঘটল কীভাবে?
মিডিয়ার নীরবতা আজ আরও ভয়ঙ্কর মনে হয় কারণ—
যে দেশে Global Press Freedom Index-এ ভারত ১৫১তম স্থানে, সেখানে সত্যিকারের প্রশ্ন তোলা যেন অপরাধে পরিণত হয়েছে।

SIR আতঙ্ক—কিন্তু প্রশ্ন SIR নিয়ে নয়, সীমান্ত নিয়ে
SIR শুরুর পর ৯ দিনেই শত শত বাংলাদেশি সীমান্তে পৌঁছে গেছে।
তাদের মধ্যে কেউ পরিচারিকা, কেউ রাজমিস্ত্রি, কেউ শ্রমিক।
কারও কাছে নথি নেই, কারও কাছে আবার অবৈধ ভারতীয় নথি।
কিন্তু মূল প্রশ্ন বিস্মৃত হচ্ছে—
যারা ঢুকেছিল বছরের পর বছর আগে, তারা কীভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছিল?
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া—সবাই দায় এড়াচ্ছে
কেউ কেন্দ্রকে দোষ দিচ্ছে, কেউ রাজ্যকে। কিন্তু সীমান্ত যে কেন্দ্রের অধীনে, সে কথা যেন ভুলে যেতে চাইছে অনেকেই।
“সীমান্ত সুরক্ষায় BSF-এর ব্যর্থতা কেন?”
এই মূল প্রশ্নটাই মিডিয়া, রাজনীতি ও প্রশাসন এড়িয়ে যাচ্ছে।
সম্পাদকীয় হিসেবে আমাদের অবস্থান
একটি গণতান্ত্রিক দেশে প্রশ্ন তোলা অপরাধ নয়। তাই আমরা সোজা প্রশ্ন রাখছি:
১. BSF কি ঘুমিয়ে ছিল যখন এত অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে?
২. দালাল চক্রকে কে রক্ষা করছে?
৩. কেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জবাবদিহি করতে বলা হচ্ছে না?
৪. সীমান্ত সুরক্ষার ব্যর্থতার দায় কে নেবে?
SIR-এ মানুষ সীমান্তে ফিরছে—এটি সমস্যা নয়, এটি ফলাফল।
মূল সমস্যাটি সীমান্ত নিরাপত্তার ভয়াবহ ব্যর্থতা।
যতক্ষণ না এই প্রশ্নগুলোর জবাব পাওয়া যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত SIR আতঙ্ক নয়,
সীমান্তের গাফলতিই ভারতীয়দের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক।



