বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই বদলাচ্ছে রাজনৈতিক প্রচারের ধরন। মাঠের সভা-মিছিলের পাশাপাশি এবার ডিজিটাল ময়দানেই বড় লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলি। এই আবহেই সামনে এসেছে নতুন কৌশল—বিজেপির হয়ে সোশাল মিডিয়ায় রিল বানালেই মিলতে পারে ২০ হাজার টাকা। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মাধ্যমে প্রচার বাড়ানোর এই পরিকল্পনা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক।
সূত্রের দাবি, সমাজমাধ্যমে সংগঠিত প্রচার জোরদার করতে ইনস্টাগ্রাম রিলকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বঙ্গ বিজেপি। সেই লক্ষ্যে সোশাল মিডিয়া প্রচারের জন্য আলাদা বাজেটও বরাদ্দ করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দলের পক্ষে কনটেন্ট তৈরি করলে প্রতি রিলের জন্য প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হতে পারে।


কারা পাবেন এই সুযোগ?
তবে সবাই এই প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত রাখা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে—
-
ইনস্টাগ্রামে অন্তত ১৫ হাজার ফলোয়ার্স থাকতে হবে
-
গড়ে ১০–১৫ হাজার ভিউ থাকতে হবে
-
কনটেন্ট হতে হবে পশ্চিমবঙ্গ-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক প্রচারমূলক
যারা আগ্রহী, তাদের জন্য একটি অনলাইন লিংকের মাধ্যমে আবেদন করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
ডিজিটাল প্রচারেই জোর রাজনৈতিক দলগুলির
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কাছে পৌঁছতে সোশাল মিডিয়া এখন সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। ফলে শুধু বিজেপি নয়, প্রায় সব রাজনৈতিক দলই কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের গুরুত্ব দিচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেসও ইতিমধ্যেই ‘ডিজিটাল যোদ্ধা’ তৈরি করে অনলাইন প্রচারে জোর দিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংগঠিত প্রচার চালানো হচ্ছে।
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বাড়তি গুরুত্ব
এ বছর কেন্দ্রীয় বাজেটেও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বিশেষ ঘোষণার কথা জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। ভবিষ্যতে এই ক্ষেত্রকে পেশাগত শিক্ষার আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক প্রচারেও ‘ইনফ্লুয়েন্সার ইকোনমি’ যে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে, তা ক্রমেই স্পষ্ট।
তবে রাজনৈতিক বার্তা ছড়াতে অর্থের বিনিময়ে কনটেন্ট তৈরির এই কৌশল কতটা নৈতিক বা স্বচ্ছ—তা নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলছে বিভিন্ন মহল। ভোটের আগে ডিজিটাল প্রচারের এই নতুন অধ্যায় বাংলার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।









