বীরভূমের (Birbhum) বোলপুরে (Bolpur) অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) তৃণমূল কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখাল বিজেপি (BJP)। অন্যদিকে, হুগলির (Hooghly) চুঁচুড়ায় (Chinsurah) সিটু-র (CITU) প্রাক্তন অফিস ১৫ বছরে তৃতীয় বার দখল করে পদ্মশিবির ঘোষণা করল, এখান থেকেই দলের কাজকর্ম চলবে। মঙ্গলবার দুই জেলাতেই বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের এই তৎপরতা ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
বোলপুর শহরের নিচুপট্টির তৃণমূল কার্যালয়টি স্থানীয়দের কাছে ‘অনুব্রত মণ্ডলের অফিস’ নামেই পরিচিত ছিল। মঙ্গলবার সেই কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূল (TMC) সরকারের আমলে বোলপুরে যথেচ্ছাচার ছাড়া কিছু হয়নি। সামাজিক উন্নয়ন বলতে কিছুই হয়নি বলে দাবি করেন তাঁরা। একদা বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত প্রায়ই উন্নয়নের কথা বলতেন। রাজনৈতিক বিরোধীদের ‘উন্নয়ন-বিরোধী’ বলে চিহ্নিত করতেন তিনি। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকে অনুব্রতকে আর তেমন প্রকাশ্যে দেখা যায় না। এমনকি, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনাও তাঁর মুখে শোনা গিয়েছে। যে কার্যালয়ে তিনি রোজ বসতেন, সেখানে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বোলপুরের প্রাক্তন বিধায়ক কিংবা তৃণমূল কাউন্সিলরেরা এলাকার জন্য কিছুই করেননি। বিজেপি নেতৃত্বের আরও অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বহু বিজেপি কর্মী-সমর্থকের উপর হামলা হয়েছে, অত্যাচারিত হয়েছেন তাঁদের পরিবারও। তবে এ নিয়ে অনুব্রত বা তৃণমূলের অন্য কোনো নেতার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রায় একই চিত্র চুঁচুড়ার খাদিনা মোড়ে। সেখানকার একটি কার্যালয় ঘিরে ১৫ বছরে তিন বার ঝান্ডাবদল হল। গত ২৭ মে লাল পতাকা উড়েছিল অধুনা তৃণমূল কার্যালয়টিতে। মঙ্গলবার সেই কার্যালয়ের দখল নিয়েছে বিজেপি। অথচ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)— সকলেই নির্দেশ দিয়েছেন, বিরোধীদের কোনো কার্যালয়ে কেউ যেন হাত না দেয়। কিন্তু খাদিনা মোড়ের কার্যালয়ে দেখা গেল বিশাল ব্যানার, তাতে লেখা— ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’।
স্থানীয় সূত্রে খবর, কিছু দিন আগেও সেটি ছিল সিটু-র অফিস। জিটি রোডের (GT Road) পাশে চুঁচুড়া শহরের সবচেয়ে বড় ‘আইল্যান্ড’ খাদিনা মোড়। সিপিএমের (CPIM) শ্রমিক সংগঠনের ওই অফিস ২০১১ সালে তৃণমূল দখল করেছিল বলে অভিযোগ। চুঁচুড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সেখানেই কার্যালয় খোলেন। সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সিটু নেতৃত্বের হাতে অফিস তুলে দেন তিনি। ১৫ বছর পর ফের লাল ঝান্ডা উড়েছিল খাদিনা মোড়ের ওই কার্যালয়ের সামনে। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই আবার রংবদল। চুঁচুড়া মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি দেবমাল্য নিয়োগী (Debamalya Niyogi)-সহ উপস্থিত ছিলেন বিজেপি কর্মীরা।
বিরোধী দলের কার্যালয় ‘দখলের’ কথা জোর দিয়ে বলেছেন বিজেপি কর্মী শুভজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “সিটু নেওয়ার পরেও অফিস বন্ধ ছিল। আমাদের একটা আবেগ ছিল যে, এই অফিস বিজেপির হবে। এখান থেকেই আমরা কাজকর্ম করব। সেই কারণে আজ বিজেপি পতাকা লাগিয়ে দখল নিলাম।” যদিও চুঁচুড়ার বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগ (Subir Nag) জানিয়েছেন, তিনি এমন কাজ করতে বারণ করেছিলেন। তাঁর সাফ কথা, “আমি জানি না কারা এগুলো করছে। দলের তরফে এমন কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য— সকলেই বলছেন, দখলের রাজনীতি আমরা করব না। আমি খোঁজ নিয়ে দেখব। যাঁদের পার্টি অফিস ছিল, তাঁদেরই ফিরিয়ে দেওয়া হবে।”






