‘সম্মান না পেলে দল করব না’, তৃণমূলকে বার্তা অনুব্রতের! ভরাডুবির দায় আইপ্যাকের ঘাড়ে

তৃণমূলের পরাজয়ের পর আইপ্যাককে দায়ী করলেন অনুব্রত মণ্ডল। সম্মান না পেলে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিতও দিলেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর দলের অন্দরে অসন্তোষের সুর আরও জোরালো হচ্ছে। এবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন বীরভূমের প্রভাবশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডল। সম্মান না পেলে আর সক্রিয়ভাবে দল করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দলের নির্বাচনী ব্যর্থতার জন্য আইপ্যাককে দায়ী করে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন অনুব্রত।

দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে মুখ খুলে অনুব্রত দাবি করেন, তৃণমূলের সংগঠন দুর্বল হওয়ার পিছনে অন্যতম কারণ আইপ্যাকের ভূমিকা। তাঁর অভিযোগ, জেলা থেকে ব্লক স্তর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছিল ওই সংস্থার বিরুদ্ধে। ফলে তৃণমূলের মূল সাংগঠনিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

অনুব্রতের বক্তব্য, তৃণমূল যখন প্রথম রাজনৈতিক লড়াই শুরু করেছিল, তখন কোনও রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থার প্রয়োজন হয়নি। কর্মী-সমর্থকদের শক্তির উপর ভর করেই দল এগিয়েছিল। পরবর্তীতে আইপ্যাকের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা দলের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে বলেই তাঁর দাবি।

তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির বিষয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। অনুব্রতের মতে, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেই একসময় তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল। সেই পুরনো মিত্রকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে ভুল ছিল বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি তৃণমূলের অন্দরে যে ভাঙনের ছবি সামনে এসেছে, তা নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বীরভূমের নেতা। বিধায়ক ও সাংসদদের একাংশ পৃথক ব্লক গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে যে জল্পনা চলছে, তা নিয়ে তিনি সরাসরি সমালোচনা করেননি। বরং তাঁর বক্তব্য, তাঁরা অন্য কোনও দলে যাচ্ছেন না, নিজেদের অবস্থান জানাচ্ছেন মাত্র।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও আবেগঘন মন্তব্য করেছেন অনুব্রত। তাঁর দাবি, দলের নেত্রীকে তিনি এখনও শ্রদ্ধা করেন। তবে শেষ কয়েক বছরে তিনি এমন কিছু মানুষের প্রভাবের মধ্যে চলে গিয়েছেন, যার ফলেই বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নিজের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন অনুব্রত। তাঁর দাবি, দলীয় নেতৃত্ব তাঁকে কোনও বিশেষ দায়িত্ব দেয়নি। এমনকি কোর কমিটির বৈঠকে নিজের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলেও স্পষ্ট নির্দেশ পাননি। সেই কারণেই তিনি নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় হননি বলে জানিয়েছেন।

নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও মুখ খুলেছেন অনুব্রত। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, সম্মান পেলে তৃণমূলের সঙ্গেই থাকবেন। তবে সম্মান না পেলে চুপচাপ সরে দাঁড়াবেন। অন্য কোনও দলে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা তাঁর নেই বলেও জানিয়েছেন।

অনুব্রতের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে দলের পরাজয়ের পর যখন নেতৃত্ব, সংগঠন এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে, তখন তাঁর বক্তব্য তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনা উসকে দিল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর