সভামঞ্চ থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি যে শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়, তার বাস্তব প্রতিফলন মিলল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে। শালতোড়ার জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই বাঁকুড়ার বন্ধ পাথর খাদান নিয়ে ই-অকশনের বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন হয়ে পড়া হাজার হাজার শ্রমিকের কাছে এই সিদ্ধান্ত নতুন করে আশার আলো জ্বালাল।
গত ১০ জানুয়ারি, ২০২৬-এ বাঁকুড়ার শালতোড়ায় আয়োজিত জনসভা থেকেই পাথর খাদান পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন Abhishek Banerjee। তাঁর বক্তব্য ছিল স্পষ্ট—আইনি জটিলতায় বন্ধ হয়ে থাকা খাদানগুলি পুরোপুরি চালু করা গেলে অন্তত ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সম্ভব। সেই ঘোষণার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।


খাদান বন্ধ থাকায় বাঁকুড়া-শালতোড়া অঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক কার্যত বেকার হয়ে পড়েছিলেন। পাথর শিল্পনির্ভর এই এলাকায় তার প্রভাব পড়েছিল স্থানীয় অর্থনীতিতেও। সরকারিভাবে খাদান পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তে তাই শ্রমিক মহলে স্বস্তির বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, এটি শুধু কর্মসংস্থান নয়—এই অঞ্চলের আর্থিক চাকা ফের সচল করার বড় পদক্ষেপ।
শালতোড়ার ‘রণ সংকল্প’ সভা থেকেই অভিষেক পাথর খাদান শ্রমিকদের উদ্দেশে আশ্বাস দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, গত দু’মাস ধরে এই বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, Mamata Banerjee-র দফতর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ৩১ মার্চের আগেই সব প্রক্রিয়া শেষ করে খাদান চালু করতে হবে, যাতে ২৫ হাজার মানুষের কাজের ব্যবস্থা হয়।
অভিষেকের সেই ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই বাঁকুড়ার ১৭টি পাথর খাদান নিয়ে ই-অকশনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি অনলাইনে নিলাম হবে। নিলামের পরবর্তী দু’সপ্তাহের মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে খাদানগুলিতে কাজ শুরু করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।


রাজনৈতিক মহলের মতে, কর্মসংস্থানকে সামনে রেখে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু বাঁকুড়া নয়, গোটা পশ্চিমাঞ্চলেই পড়বে। দীর্ঘদিন পর পাথর শিল্পে ফের গতি আসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা—এ বার প্রতিশ্রুতি বাস্তবেই মাটিতে নামল।







