আস্থাভোটে জিতে তামিলভূমের কুর্সিতে বিজয় থলপতি, আড়াআড়ি ভাঙন এডিএমকে-তে

আস্থাভোটে ১৪৪ ভোটে জয়ের পরও এডিএমকে-র ২৫ বিধায়কের বিদ্রোহে রাজনৈতিক সমীকরণে টানাপোড়েন, ভাঙনের ইঙ্গিতে তামিল রাজনীতি নতুন মোড়ে

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক সমীকরণে বড় মোড়—আস্থাভোটে জিতে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি ধরে রাখলেন বিজয়। কিন্তু এই জয়ের মধ্যেই ফুঁসে উঠল বিরোধী শিবির—এডিএমকে-র একাংশ বিধায়কের বিদ্রোহে দল ভাঙনের মুখে, যা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বুধবার বিধানসভায় অনুষ্ঠিত আস্থাভোটে বিজয়ের পক্ষে পড়ে ১৪৪টি ভোট। সংখ্যার নিরিখে এই জয় নিঃসন্দেহে স্বস্তিদায়ক হলেও, রাজনৈতিকভাবে তা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে এডিএমকে-র অভ্যন্তরীণ ভাঙনের কারণে। দলের শীর্ষনেতা পালানিস্বামী -র নির্দেশ অমান্য করে ২৫ জন বিধায়ক সরাসরি বিজয়ের পক্ষে ভোট দেন।

তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দল একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে উঠে এলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে কংগ্রেস, বাম দল, ভিসিকে ও আইইউএমএল-এর মতো দলগুলির সমর্থন নিয়ে জোট সরকার গড়তে হয় তাঁকে। সেই সমর্থন নিয়েই আস্থাভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করেন তিনি।

তবে এই ভোটাভুটিতে একাধিক নাটকীয়তা ছিল। টিভিকে-র বিধায়ক শ্রীনিবাস সেতুপতি আদালতের নির্দেশে ভোটে অংশ নিতে পারেননি। অন্যদিকে, এম. কে. স্টালিন-এর নেতৃত্বাধীন ডিএমকে ভোটদানে বিরত থাকে। পিএমকে-র চার এবং বিজেপির এক বিধায়কও ভোট প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকেন।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা অবশ্য এডিএমকে-র অন্দরেই। ৪৭টি আসন পাওয়া দলটির মধ্যে ২৫ জন বিধায়ক বিদ্রোহ করে বিজয়ের পাশে দাঁড়ানোয় দল কার্যত দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাঙন ভবিষ্যতে আরও গভীর হতে পারে।

মহারাষ্ট্রে শিবসেনা বা এনসিপি-র মতোই এডিএমকে-তেও ‘আড়াআড়ি ভাঙন’-এর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এস পি ভেলুমণি ও সি ভি সন্মুগমের মতো নেতাদের ভূমিকা নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। তাঁদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ বলেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

যদিও বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তারা সরকারে যোগ দিতে চায় না; বরং দলের অস্তিত্ব রক্ষা করতেই এই অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এই বিভাজন এডিএমকে-র ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

সব মিলিয়ে, আস্থাভোটে জয়ের পরও বিজয়ের সামনে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ কম নয়। আর বিরোধী শিবিরের এই ভাঙন তামিল রাজনীতির আগামী অধ্যায়কে আরও জটিল করে তুলছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত