কলকাতার ময়দান আজ নিঃশব্দ—প্রয়াত মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি ও বর্ষীয়ান ক্রীড়া প্রশাসক স্বপন সাধন বসু। তাঁর প্রয়াণে শুধু ক্রীড়াজগতই নয়, রাজনৈতিক মহলও শোকস্তব্ধ। একের পর এক বিশিষ্ট ব্যক্তি তাঁর বাসভবনে গিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, আর সোশাল মিডিয়ায় ভেসে উঠছে স্মৃতি ও শ্রদ্ধার বার্তা।
বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু নিজে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করে জানান, টুটু বসুর মতো উদার মন ও মানবিকতা আজকের দিনে বিরল। তাঁর কথায়, “অর্থ ও মন—দুটোই ছিল ওঁর মধ্যে, যা খুব কম মানুষের মধ্যে দেখা যায়।”
রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জগতের বহু পরিচিত মুখও এদিন উপস্থিত ছিলেন বালিগঞ্জের বাসভবনে। অভিনেত্রী মুনমুন সেন ও তাঁর কন্যা রাইমা সেন, বিজেপি নেতা স্বপন দাশগুপ্ত এবং প্রাক্তন ফুটবলার সুব্রত ভট্টাচার্য শ্রদ্ধা জানান। সুব্রতর কথায়, “মোহনবাগানের জন্য উনি যা করেছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।”
টুটু বোসের প্রয়াণে শোকবার্তা মমতা-শুভেন্দুর, শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে উপস্থিত বিমান বসু

শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তাঁকে স্মরণ করে বলেন, ভারতীয় ফুটবল ও মোহনবাগান পরিবারের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় ছিলেন টুটু বসু।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শোকবার্তায় উল্লেখ করেছেন, মোহনবাগান ও টুটু বসু একে অপরের পরিপূরক ছিলেন। তাঁর নেতৃত্ব, দূরদৃষ্টি ও খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীমমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-ও গভীর শোকপ্রকাশ করে তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একইভাবে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-ও তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন।

কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম তাঁর বাসভবনে গিয়ে জানান, ব্যক্তিগতভাবে টুটু বসুর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্ক ছিল। “মন খারাপ হলে ওঁর কাছে গেলে সব ঠিক হয়ে যেত”—এই স্মৃতিচারণেই ফুটে ওঠে তাঁর মানবিক দিক।
শুধু রাজনীতি নয়, খেলাধুলার মাঠেও সম্মান জানানো হয়েছে তাঁকে। সিএবি প্রথম ডিভিশন ম্যাচের আগে নীরবতা পালন করে ক্রিকেটাররা, যা প্রমাণ করে ক্রীড়াজগতে তাঁর প্রভাব কতটা গভীর ছিল।
সব মিলিয়ে, টুটু বসুর প্রয়াণে বাংলার ক্রীড়া ও সামাজিক পরিসরে যে শূন্যতা তৈরি হল, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।



