বাংলাদেশের রাজনীতিতে কি ফের পাল্টাতে শুরু করেছে হাওয়া? জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির জয় এবং তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী পদে বসার পরেই নতুন করে আলোচনায় আওয়ামী লীগ। প্রায় দুই বছরের রাজনৈতিক নির্বাসনের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একে একে খুলতে শুরু করেছে দলটির কার্যালয়। এতে প্রশ্ন উঠেছে—আওয়ামী লীগ কি আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে, নাকি এটি শুধুই তৃণমূল স্তরের কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ?
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ঢাকা-সহ একাধিক জেলা ও উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দলীয় অফিসে প্রবেশ করতে দেখা গিয়েছে। কোথাও বন্ধ কার্যালয়ের তালা খোলা হয়েছে, কোথাও আবার পুনর্দখল ঘিরে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনাও সামনে এসেছে। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে—এই পুনরুজ্জীবন কি দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশে, নাকি স্থানীয় পর্যায়ের উদ্যোগে?


২০২৪ সালের অগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সেই কারণে এবারের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি দলটি। ওই সময় দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের বহু কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৩২ ধানমন্ডির বাড়িও একাধিকবার হামলার মুখে পড়ে।
তবে নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম জানিয়েছেন, দলীয় কার্যালয় নিষিদ্ধ বা বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, কর্মী-সমর্থকদের সেখানে যাতায়াতে কোনও বাধা নেই এবং এটি কোনও রাজনৈতিক সমঝোতার ফল নয়, বরং স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফেরার ইঙ্গিত।
দলীয় সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনা বিদেশে থাকলেও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিয়মিত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং সংগঠন সক্রিয় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। অন্যদিকে কয়েকটি জেলার স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, নির্বাচনের আগে কিছু বিএনপি বা জামায়াত নেতার সঙ্গে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃত্বের অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছিল। নির্বাচনের পর কার্যালয় খোলার বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি উঠেছে।


পঞ্চগড়ে একটি আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের তালা খোলার ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পর বিতর্ক আরও বাড়ে। সেখানে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। গত এক সপ্তাহে চাঁদপুর, ঠাকুরগাঁও, সাতক্ষীরা, বরগুনার বেতাগী, পটুয়াখালীর দশমিনা এবং খুলনায় দলীয় কার্যালয় খুলে সক্রিয় হতে দেখা গিয়েছে আওয়ামী লীগ কর্মীদের।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত নয়। তবে নির্বাচনের পর দ্রুত বদলানো পরিস্থিতি যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে সংশয় কমছে না।







