সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ রুখতে এবার কি অসমের পথেই হাঁটবে বাংলা? অসমে গিয়ে সেই ইঙ্গিতই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, অসম ও ত্রিপুরায় যেভাবে অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গেও একই মডেল কার্যকর করা হতে পারে—যা ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শুভেন্দু স্পষ্ট বলেন, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করা জরুরি। তাঁর দাবি, অতীতে রাজ্যে তুষ্টিকরণের রাজনীতির কারণে সীমান্ত রক্ষা দুর্বল হয়েছিল, এমনকি বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় জমিও দেওয়া হয়নি। ফলে অনুপ্রবেশের সমস্যা বেড়েছে।


বিজেপির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অনুপ্রবেশকারীদের বসবাস বাড়ছে। নির্বাচনী প্রচারেও এই ইস্যু ছিল কেন্দ্রীয় বিষয়। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেও এই অবস্থার পরিবর্তনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
অসম মডেল প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “দেশের স্বার্থে অসম ও ত্রিপুরায় যে পদক্ষেপ হয়েছে, বাংলাতেও তা সম্পূর্ণ করা হবে।” তাঁর এই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কি ভবিষ্যতে বাংলায় এনআরসি-র মতো প্রক্রিয়া চালু হতে পারে?
এদিন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার প্রশংসাও শোনা যায় তাঁর মুখে। শুভেন্দু জানান, ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক—দুই ক্ষেত্রেই হিমন্তর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁর কাজ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত ও অনুপ্রবেশ ইস্যুকে সামনে রেখে আগামী দিনে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে পারে রাজ্যের নতুন সরকার। অসম মডেলের প্রসঙ্গ তুলে সেই বার্তাই কার্যত স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।







