আর সক্রিয় রাজনীতি নয়, নতুনদের হাতে দলের ব্যাটন তুলে দিচ্ছেন অশোক ভট্টাচার্য।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ আর সক্রিয় রাজনীতি নয়, নতুনদের হাতে দলের ব্যাটন তুলে দিচ্ছেন অশোক ভট্টাচার্য।  কদিন আগেও অশোক আত্মবিশ্বাসী ছিলেন শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে নিজের জয় নিয়ে। কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাস গুঁড়িয়ে যায় ২রা মে বেলা বাড়ার সাথে সাথেই। একদা শিষ্য শংকরের কাছে শুধু পরাজিত নন, থার্ড হয়েছেন। তাঁকে প্রাপ্ত ভোটে ছাপিয়ে গিয়েছেন তৃণমূলের ওমপ্রকাশ মিশ্রও। গননার গতিপ্রকৃতি বুঝতে পেরে গণনার মাঝেই কাউন্টিং হল ছেড়েছিলেন শিলিগুড়ির প্রাক্তন বিধায়ক।

আরও পড়ুনঃ কেন্দ্র আড়ি পাতছে! মমতার নিদানে একসঙ্গে ৫ স্মার্ট ফোন ত্যাগ জ্যোতিপ্রিয়র

পরে জানিয়ে দিয়েছিলেন আর সক্রিয় রাজনীতি নয়। কাজ করবেন পরামর্শদাতা হিসেবে। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর, শিলিগুড়িতে বামে ভোট টানতে ভরসা সেই অশোকই। তা আবার বুঝিয়েছে সিপিআইএম। অশোক ভট্টাচার্য কে সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরিয়ে বামফ্রন্টের মুখ করতে চায় তারা। লক্ষ্য যেন তেন প্রকারেণ শিলিগুড়ি পুরসভা দখল।

২০১৬ নির্বাচনে রাজ্যে দ্বিতীয়বার তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর যে গুটিকয় কেন্দ্রে সিপিআইএম ভাল ফল করেছিল তারমধ্যে অন্যতম শিলিগুড়ি। কংগ্রেস কে সাথে নিয়ে শিলিগুড়ি পুরসভার বোর্ডও দখলে রেখেছিল বামেরা। সেটাও অশোকের নেতৃত্বেই। কিন্তু সময় বদলেছে। রাজ্যে দীর্ঘ্যদিন পুরসভা নির্বাচন হয়নি। প্রশাসক দিয়ে চালানো হচ্ছে পুরোবোর্ড। এদিকে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল তৃতীয়বারের জন্যে জয়ী হয়ে অশোক কে সরিয়ে দিয়েছে শিলিগুড়ি পুরোবোর্ডের প্রশাসক পদ থেকে।

আর সক্রিয় রাজনীতি নয়, নতুনদের হাতে দলের ব্যাটন তুলে দিচ্ছেন অশোক ভট্টাচার্য।
আর সক্রিয় রাজনীতি নয়, নতুনদের হাতে দলের ব্যাটন তুলে দিচ্ছেন অশোক ভট্টাচার্য।

এই পরিস্থিতিতে ফের ভোটে জিতে শিলিগুড়ি পুরসভার দখল নিতে চাইছে বামফ্রন্ট। অঙ্ক কষা হচ্ছে ওয়ার্ড ভিত্তিক ফলাফলে। বিধানসভা নির্বাচনে খারাপ ফল করলেও শিলিগুড়িতে ওয়ার্ডভিত্তিক নির্বাচনগুলিতে সিপিএম ভালো ফল করবে বলে মনে করছে অনেকেই। কারন বিজেপির নিচুস্তরে সংগঠন নেই। আর তৃণমূল আগে থেকেই পিছিয়ে। কিন্তু কি বলছেন খোদ অশোক ভট্টাচার্য?

আর সক্রিয় রাজনীতি নয়, নতুনদের হাতে দলের ব্যাটন তুলে দিচ্ছেন অশোক ভট্টাচার্য।

প্রবীণ নেতার কথায়, ‘রাজনীতি থেকে বিদায় নিচ্ছি না, তবে বেশীদিন আর রাজনীতি করতে চাই না।’ তিনি জানালেন, অনেকদিন থেকে রাজনীতি করে আসছি, তবে বয়স বাড়ছে, তাই শরীর আর দিচ্ছে না। তিনি আরো জানালেন একবার দাড়িয়ে জিতে গেলে ৫ বছর সেটা টানতে হবে,আমি বুঝতে পারছি সেই ক্ষমতা আমার কমে আসছে। দলের শোচনীয় হাল প্রসঙ্গে অশোকবাবু বলেন, ‘খারাপ সময় সবার সবসময় থাকে না, আমার দলও ঠিক ঘুরে দাড়াবে। এটা আমার বিশ্বাস। তবে আমি এবারে পিছনের সারিতে চলে যেতে চাই। আর আগামীদিনে আমার দলে আমি নতুনদের দেখতে চাই।’

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন