দিল্লির রাজনীতিতে আবারও চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে অরবিন্দ কেজরিওয়াল। আবগারি কেলেঙ্কারি মামলায় আইনি লড়াইয়ের চাপ কাটতে না কাটতেই এবার নতুন বিতর্কে জড়ালেন আম আদমি পার্টির সুপ্রিমো। ‘ফাঁসিঘর’ সংক্রান্ত মন্তব্যকে ঘিরে তাঁকে আগামী ৬ মার্চ দিল্লি বিধানসভার প্রিভিলেজেস কমিটির সামনে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে শুনানির লাইভ স্ট্রিমিংয়ের দাবিও তুলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেই এই তথ্য জানান কেজরিওয়াল। সেখানে তিনি লেখেন, দিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা—দূষণ, ভাঙাচোরা রাস্তা, শহরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ এবং হাসপাতালগুলিতে ওষুধের ঘাটতি—এই সব বিষয় থাকা সত্ত্বেও বিধানসভা তাঁকে ‘ফাঁসিঘর’ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জন্য তলব করেছে। তাঁর বক্তব্য, প্রিভিলেজেস কমিটির নোটিস অনুযায়ী তিনি ৬ মার্চ উপস্থিত থাকবেন এবং বিষয়টি জনসমক্ষে রাখতে শুনানির লাইভ সম্প্রচারের আবেদনও করেছেন।


এই বিতর্কের সূত্রপাত ২০২১ সালে, যখন দিল্লিতে ক্ষমতায় ছিল আম আদমি পার্টি সরকার। সে সময় দিল্লি বিধানসভার তৎকালীন স্পিকার রাম নিবাস গোয়েল দাবি করেছিলেন, ব্রিটিশ আমলে বর্তমান বিধানসভা ভবনের নীচে থাকা কিছু কক্ষ ‘ফাঁসিঘর’ হিসেবে ব্যবহার করা হত।
শুধু তাই নয়, তাঁর আরও দাবি ছিল—লালকেল্লা ও বিধানসভা চত্বরের মধ্যে মাটির নীচে একটি গোপন সুড়ঙ্গ ছিল। সেই সুড়ঙ্গপথ দিয়েই ব্রিটিশ আমলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হত বলে দাবি করা হয়। পরে ওই তথাকথিত ‘ফাঁসিঘর’ সংস্কারে প্রায় ১.৪ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল বলেও জানানো হয়েছিল।
তবে এই দাবির ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে পরবর্তী সময়ে। দিল্লি বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার বিজেন্দর গুপ্তা দাবি করেন, যে জায়গাকে ‘ফাঁসিঘর’ বলা হচ্ছে সেটি আসলে কোনও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার স্থান নয়। তাঁর মতে, ওই অংশটি মূলত বিধানসভায় টিফিন ট্রে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত একটি সিঁড়ির অংশ ছিল।


এই বিরোধী দাবির জেরেই বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই এবার প্রিভিলেজেস কমিটির সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে।







