নজরবন্দি ব্যুরোঃ ক্যানসার। ব্রেন স্ট্রোক। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। না, তবু হাল ছাড়েননি ‘ফাইটার’ ঐন্দ্রিলা শর্মা। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে টানা ১৭ দিন ধরে জীবনে ফেরার লড়াই লড়ে যাচ্ছেন ২৪ বছরের অভিনেত্রী। ঐন্দ্রিলার দ্রুত আরোগ্য কামনায় সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়াল ভরে উঠেছে একের পর এক শুভেচ্ছাবার্তায়। সকলের একটাই কামনা ‘মারণ রোগকে জয় করে ফিরে এসো ঐন্দ্রিলা’!
আরও পড়ুনঃ সিপিআর সাপোর্টে ঐন্দ্রিলা, চরম সংকটজনক অভিনেত্রী, প্রমাদ গুনছেন চিকিৎসকরা।


১৭ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা। দিন দিন তাঁর অবস্থার অবনতি হচ্ছে। ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর হৃদ্রোগেও আক্রান্ত হন ঐন্দ্রিলা। গতকাল, বুধবার সকালে পরপর কয়েকবার হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন অভিনেত্রী। অভিনেত্রীকে রাখা হয় ‘সিপিআর’ সাপোর্টে। কিন্তু অবস্থা সংকটজনক থেকে চরম সংকটজনক হয়ে ওঠে। তবে লড়াই থামেনি।

পর পর ২ বার ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে সেই সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা। আবার কাজে ফেরা। লড়াইয়ের অন্যতম নাম ঐন্দ্রিলা। দীপাবলির সন্ধ্যাতেও সেজেগুজে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোকময় ছবি পোস্ট করেছিলেন ঐন্দ্রিলা। কিন্তু তার ১ সপ্তাহের মাথাতেই ফের ছন্দপতন। ১ নভেম্বর রাতে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন অভিনেতা ঐন্দ্রিলা শর্মা। তাঁর শরীরের একদিক অসাড় হয়ে যায়। ঘন ঘন বমি করতে থাকেন। অচেতন হয়ে পড়েন।



সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে ছোটেন তাঁর পরিবার ও বন্ধু সব্যসাচী চৌধুরী। সেদিন রাতেই অস্ত্রোপচার হয় ঐন্দ্রিলার। তখন থেকেই ভেন্টিলেশনে ছিলেন তিনি। মাঝে একবার তাঁকে ভেন্টিলেশন থেকে বার করার প্রক্রিয়া শুরু হলেও, শরীরে সংক্রমণ বাড়তেই ফের তাঁকে সি-প্যাপ ভেন্টিলেশনে রাখা হয়।
চলছে অ্যান্টিবায়োটিক ট্র্যাকিওস্টোমি কেয়ার, মৃত্যুর চোখে চোখ রেখে লড়াই ঐন্দ্রিলার।

এই মুহূর্তে হাওড়ার এক বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে আছেন ২৪ বছর বয়সি অভিনেত্রী। চলছে ‘অ্যান্টিবায়োটিক ট্র্যাকিওস্টোমি কেয়ার’। এয়ার ম্যাটট্রেস সহ আইসিইউ-র সব পরিষেবাই ব্যবহার করা হচ্ছে অভিনেত্রীর চিকিৎসায়। আইসিইউ-তে যা যা পরিষেবা-সহ ঐন্দ্রিলার চিকিৎসা করা হচ্ছে, যে কোনও প্রথম সারির বেসরকারি হাসপাতালের খরচ দেখলে বোঝা যায়, প্রতি দিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার কাছাকাছি খরচ হতে পারে রোগীর।
ঐন্দ্রিলা শর্মার আরোগ্য কামনা করেছে গোটা টলিউড। কেউ লেখেন, “এই ছোট্ট মেয়েটি এবং ওর সঙ্গীর জন্য প্রার্থনা করুন। ও শুরু থেকে মেয়েটির পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আমি তোমাদের দু’জনকেই ব্যক্তিগত ভাবে চিনি না। কিন্তু ঐন্দ্রিলা তোমার লড়াইকে কুর্নিশ জানাতে চাই।” সবার শুধুই প্রার্থনা। কিন্তু সব প্রার্থনা কে ব্যার্থ করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ঐন্দ্রিলা।







