দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের আগে বড়সড় কর্মী সঙ্কটে পড়েছে নির্বাচন কমিশন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এক অভিনব সিদ্ধান্ত—প্রথম দফায় দায়িত্ব সামলানো কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদেরই ফের কাজে নামানো হচ্ছে। প্রায় ১৭ হাজারেরও বেশি কর্মীকে জরুরি ভিত্তিতে পুনরায় নিয়োগের নির্দেশ জারি হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হচ্ছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। ভোটের আগে এই পদক্ষেপ ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা যেমন বাড়ছে, তেমনই উঠছে প্রশ্নও।
কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মোট ১৭,২৭৬ জন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী, যারা প্রথম দফার ভোটে কাজ করেছিলেন, তাঁদের দ্বিতীয় দফায় বিভিন্ন জেলায় পুনরায় নিয়োগ করতে হবে। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (ডিইও) স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দ্রুত নিয়োগপত্র প্রদান করে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে।


জেলাভিত্তিক নিয়োগের তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা—এখানে একাই ৬,৬২০ জন কর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে। তার পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা, যেখানে ৫,৬৮০ জন কর্মীকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। নদিয়ায় ১,৭৪৫ জন কর্মী নিয়োগ পাচ্ছেন, বিশেষত তেহট্ট এলাকায় সংখ্যাটা বেশি।
হাওড়ায় মোট ৭২৪ জন—এর মধ্যে ডোমজুড়ে ২২১ জন এবং জেলার অন্যান্য অংশে ৫০৩ জন। পাশাপাশি দক্ষিণ কলকাতায় ১,১০৯ জন, হুগলিতে ৭১২ জন এবং পূর্ব বর্ধমানে ৬৮৬ জন কর্মীকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ভোট পরিচালনায় প্রিসাইডিং অফিসার-সহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এই কর্মীদের নিয়োগ করা হবে বলে জানা গেছে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ভোটকর্মী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল প্রশ্ন তুলেছেন, কেন শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদেরই পুনরায় নিয়োগ করা হচ্ছে। তাঁর মতে, রাজ্য সরকারের বহু কর্মচারী রয়েছেন, যারা এখনও ভোটের দায়িত্ব পাননি—তাঁদের সুযোগ দেওয়া যেত।
তিনি বলেন, “এ ধরনের সিদ্ধান্ত আগে দেখা যায়নি। তবুও আমরা চাই নির্বাচন হোক সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও অবাধ।”


কমিশনের এই পদক্ষেপ একদিকে প্রশাসনিক ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা হলেও, অন্যদিকে তা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে—যা দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রাজনৈতিক আবহে নতুন মাত্রা যোগ করছে।







