রাজ্যে বিজেপি সরকারের নতুন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ ঘিরে শুরু হয়েছে বড়সড় যাচাইপর্ব। আজ থেকেই নবান্নে ফর্ম ফিলআপ শুরু হলেও, সকল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ উপভোক্তা যে নতুন প্রকল্পে মাসে ৩ হাজার টাকা পাবেন, তা নয়। এসআইআরে বাদ পড়া নামের তালিকা ধরে ইতিমধ্যেই লক্ষাধিক মহিলাকে চিহ্নিত করছে প্রশাসন।
বুধবার বিকেল থেকেই অনলাইন ও অফলাইন— দুই পদ্ধতিতেই ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র আবেদনপত্র জমা নেওয়া শুরু হচ্ছে। তবে আবেদন করলেই টাকা মিলবে না। সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট যোগ্যতার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হবে।
রাজ্যে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে এতদিন ২ কোটিরও বেশি মহিলা মাসিক আর্থিক সহায়তা পেতেন। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল, সেই প্রকল্প কি বন্ধ হয়ে যাবে? মঙ্গলবার সরকার জানিয়ে দেয়, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত পুরনো প্রকল্পের সুবিধা চালু থাকবে।
তবে নতুন প্রকল্পে সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরির সময়েই সামনে এসেছে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশাসনের একাংশ জানাচ্ছে, এসআইআরে বাদ পড়া নামগুলিকেই প্রাথমিকভাবে ছেঁটে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। যাঁদের নাম এসআইআরের তালিকায় নেই, তাঁদের অনেককেই শুরুতেই অযোগ্য বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এসআইআরে মোট ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। তার মধ্যে প্রায় ২৯ লক্ষ মহিলা। বিভিন্ন জেলার রিপোর্ট মিলিয়ে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার ৫২৮ জন মহিলাকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র বাইরে রাখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ গেলে সরকারের প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে বলেও প্রশাসনিক মহলের অনুমান।
শুধু এসআইআরের তালিকাই নয়, জেলা ট্রাইব্যুনালগুলিতেও নজর রাখছে সরকার। যাঁদের নাম এখনও বিবেচনাধীন, তাঁদের তথ্যও আলাদা করে যাচাই করা হচ্ছে। আধিকারিকদের কথায়, এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আবেদনকারীদের নাম, আধার নম্বর, ভোটার কার্ডের তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্যুর সরকারি পোর্টাল থেকেও তথ্য যাচাই চলছে, যাতে মৃত উপভোক্তাদের নাম দ্রুত বাদ দেওয়া যায়।
সব মিলিয়ে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ কার্যকর করতে প্রশাসনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় কাজ— প্রকৃত উপভোক্তাদের খুঁজে বের করা। আর সেই হিসেব কষতেই কার্যত দিনরাত এক করে কাজ করছে বিভিন্ন জেলা প্রশাসন ও নবান্ন।



