অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত নদিয়ায়। মহিলাদের জন্য নির্ধারিত এই সরকারি প্রকল্পের ৩ হাজার টাকা ঢুকে গেল এক পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। নদিয়ার এক গ্রামীণ চিকিৎসকের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ার ঘটনা সামনে আসতেই এলাকায় শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
ঘটনাটি নদিয়ার ভীমপুর থানার চাঁদপুর গ্রামের। সঞ্জিত বিশ্বাস নামে এক গ্রামীণ চিকিৎসক নিয়মিত বৃদ্ধভাতার সুবিধা পান। সম্প্রতি নিজের বৃদ্ধভাতার টাকা তুলতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা জমা হয়েছে, যা অন্নপূর্ণা যোজনার খাতে পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।


এই ঘটনায় বিস্মিত সঞ্জিতবাবুর দাবি, তিনি কখনও অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করেননি। শুধু তাই নয়, প্রকল্পটির সুবিধাভোগী হওয়ার যোগ্যতাও তাঁর নেই। ফলে কীভাবে তাঁর অ্যাকাউন্টে এই অর্থ এল, তা নিয়ে তিনি সম্পূর্ণ অন্ধকারে।
সঞ্জিত বিশ্বাস জানান, বৃদ্ধভাতার টাকা তুলতে গিয়ে গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। তবে বিতর্কিত ওই ৩ হাজার টাকা তিনি তোলেননি। শুধুমাত্র নিজের প্রাপ্য বৃদ্ধভাতার অর্থই তুলেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
গ্রামীণ চিকিৎসকের কথায়, বিষয়টি তিনি স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য এবং গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের নজরে আনবেন। পাশাপাশি প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ভুলবশত জমা হওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতেও তিনি প্রস্তুত।


উল্লেখযোগ্যভাবে, সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পুরুষদের অ্যাকাউন্টে সরকারি প্রকল্পের টাকা জমা পড়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয়দের একাংশের অনুমান, তথ্যভাণ্ডারের ভুল, ডেটা এন্ট্রির ত্রুটি অথবা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংযুক্তিকরণে সমস্যার কারণেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা মেলেনি। ফলে এই টাকা জমার নেপথ্যে প্রযুক্তিগত ত্রুটি রয়েছে, নাকি অন্য কোনও প্রশাসনিক গলদ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
নদিয়ার এই ঘটনা নতুন করে সরকারি প্রকল্পের তথ্য ব্যবস্থাপনা ও উপভোক্তা তালিকা নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ সামনে এলে তবেই স্পষ্ট হবে, এটি নিছক ভুল নাকি বৃহত্তর কোনও প্রশাসনিক সমস্যার ইঙ্গিত।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



