ষষ্ঠ বিশ্বকাপে ইতিহাসের হাতছানি, মারাদোনাকে ছাপিয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে চান মেসি

ষষ্ঠ বিশ্বকাপে নামতে চলেছেন লিয়োনেল মেসি। দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি মিরোস্লাভ ক্লোজ়ের গোলরেকর্ড এবং নতুন একাধিক ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে লিয়োনেল মেসি। বয়স বেড়েছে, গতি কিছুটা কমেছে, কিন্তু তাঁর প্রভাব এখনও অটুট। ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নামতে চলেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক, আর সেই সঙ্গে গড়তে চলেছেন এক অনন্য ইতিহাস। কেরিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে নতুন নজির স্থাপন করতে চলেছেন তিনি।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কোনও ফুটবলার ছয়টি আসরে অংশ নেননি। মেসির পাশাপাশি এই কীর্তি গড়তে চলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোও। তবে দু’জনের লক্ষ্য এক নয়। রোনাল্ডো যেখানে নিজের উত্তরাধিকারকে আরও সমৃদ্ধ করতে চান, সেখানে মেসির সামনে রয়েছে আরও বড় চ্যালেঞ্জ— দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করা।

মেসির বিশ্বকাপ সফরের শুরু ২০০৬ সালে জার্মানিতে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই গোল করেছিলেন তিনি। সেই তরুণ প্রতিভা আজ বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল নাম। গত দুই দশকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন, জিতেছেন একাধিক শিরোপা।

তবে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নপূরণ সহজ ছিল না। ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায়, ২০১৪ সালে ফাইনালে হার, ২০১৮ সালে শেষ ষোলো থেকেই ছিটকে যাওয়া— বারবার হতাশার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। অবশেষে ২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপ জিতে পূর্ণতা পায় তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার।

সেই সাফল্যের পর অনেকেই মনে করেছিলেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে আর দেখা যাবে না মেসিকে। কিন্তু সময় অন্য গল্প লিখেছে। বিশ্বকাপ জয়ের পরও তিনি জাতীয় দলের জার্সি ছাড়েননি। বরং ২০২৪ সালে আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকার শিরোপাও উপহার দিয়েছেন।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন মেসি। একইসঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত পারফরম্যান্সও করে চলেছেন। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আর্জেন্টিনাকে সবার আগে মূলপর্বে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মেসি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যত দিন ফুটবল উপভোগ করবেন, তত দিন খেলে যাবেন। সেই মনোভাবই তাঁকে আরও একবার বিশ্বকাপের মঞ্চে নিয়ে এসেছে।

সংখ্যার বিচারে এখনও একাধিক রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন মেসি। দেশের হয়ে ২০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মাইলফলক থেকে তিনি মাত্র দু’ম্যাচ দূরে। বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই ২৬টি ম্যাচ খেলে রেকর্ড গড়েছেন। ১৩টি গোলও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।

বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলদাতাদের তালিকায় জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজ়ের ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করতে মেসির প্রয়োজন আর চারটি গোল। গ্রুপ পর্বে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ থাকায় সেই রেকর্ডও এ বার ভাঙার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

৩৯তম জন্মদিনের ঠিক পরেই বিশ্বকাপ অভিযানে নামবেন মেসি। কোচ লিয়োনেল স্কালোনি এখনও তাঁকেই কেন্দ্র করে দল গড়েছেন। অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার ক্ষমতা— সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা এখনও তিনিই।

বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে মারাদোনার সঙ্গে নিজের নাম এক সারিতে নিয়ে এসেছেন মেসি। এবার লক্ষ্য আরও বড়। দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তিকেও ছাপিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে তাঁর সামনে। আর সেই স্বপ্ন নিয়েই হয়তো শেষবারের মতো বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নামবেন এলএম১০।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন