যন্তরমন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, কেন্দ্রকে নিশানা অভিজিৎ দীপকের; রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে

যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব অভিজিৎ দীপক। শিক্ষা, সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং যুবসমাজের দাবি ঘিরে উঠল একাধিক প্রশ্ন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লির যন্তরমন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে শনিবার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে পরিচিত সংগঠনের সমর্থকদের জমায়েতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন সংগঠনের মুখ্য মুখ অভিজিৎ দীপক। শিক্ষানীতি থেকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা— একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রকে নিশানা করা হয় বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে।

বিক্ষোভকে ঘিরে আগে থেকেই নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। কর্মসূচির অনুমতি মিলবে কি না, অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হবে কি না— তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বিভিন্ন মহলে। তবে শেষ পর্যন্ত দিল্লি পুলিশ কর্মসূচির অনুমতি দেয় এবং গোটা এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়।

বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে অভিজিৎ দীপক দাবি করেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরছেন। বিশেষ করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ও পোস্ট সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির প্রসঙ্গও। অভিজিৎ দাবি করেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম এখন বিভিন্ন মৌলিক ইস্যুতে সরব হচ্ছে এবং শুধুমাত্র ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতিতে আর আগ্রহী নয়।

এদিকে, বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে দিল্লি পুলিশের ভূমিকাও নজর কেড়েছে। কোনও অশান্তি এড়াতে প্রশাসনের তরফে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত ইস্যুতে যুবসমাজের ক্ষোভের প্রেক্ষিতে প্রশাসন পরিস্থিতি সংবেদনশীলভাবে সামলানোর চেষ্টা করেছে।

তবে বিক্ষোভকে ঘিরে রাজনৈতিক রং লাগার অভিযোগও উঠেছে। কর্মসূচিতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং সমাজকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন বিরোধী রাজনৈতিক নেতাও প্রকাশ্যে বা পরোক্ষভাবে সমর্থন জানিয়েছেন বলে বিক্ষোভকারীদের তরফে জানানো হয়েছে।

যদিও বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সংগঠনের সদস্যরা নিজেদের অরাজনৈতিক বলে দাবি করেছেন, তবু রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই আন্দোলন আগামী দিনে বৃহত্তর রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, দিল্লির যন্তরমন্তরের এই বিক্ষোভ শুধুমাত্র একটি প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। শিক্ষা, যুবসমাজের দাবি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ— একাধিক প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে এই আন্দোলন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন