‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে সোমবার উত্তেজনার সাক্ষী থাকল রাজধানী দিল্লি। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শতাধিক ছাত্র-যুব অংশ নেন। জন্তর মন্তর থেকে সংসদের দিকে মিছিল এগোতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এরপর বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের বাগ্বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। কিছু বিক্ষোভকারী পাথর ছোড়েন বলে পুলিশের অভিযোগ। এর পরই ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও সীমিত বলপ্রয়োগ করে বলে খবর।
ঘটনার জেরে সংসদ ভবন চত্বর এবং মধ্য দিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও স্থগিত রাখা হয়েছে।
কেন ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি?
CJP-র দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং যুবকল্যাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জন্তর মন্তরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল সংগঠনটি। সোমবারের পদযাত্রায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ছাত্র-যুবদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল বলে দাবি সংগঠনের।
দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, এটি শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি হিসেবেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং সংসদের সামনে নিজেদের দাবি তুলে ধরাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।
সংসদের পথে বাধা, উত্তেজনা বাড়ল
পুলিশের পক্ষ থেকে সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে জন্তর মন্তর থেকে নির্দিষ্ট প্রতিবাদস্থল ছেড়ে বিক্ষোভকারীরা এগোতেই একাধিক জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয়।
কেরল হাউস সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের আটকে দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলের বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছেন এবং পুলিশ তাঁদের থামানোর চেষ্টা করছে। কর্মসূচিতে বহু মহিলা প্রতিবাদীও অংশ নেন।
তবে পুলিশ এখনও পর্যন্ত লাঠিচার্জ বা গ্রেপ্তারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করেনি।
মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবায় সাময়িক নিষেধাজ্ঞা
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে মধ্য দিল্লির কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
হাসপাতাল থেকে বার্তা সোনম ওয়াংচুকের
এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক বর্তমানে সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোমবার প্রকাশিত মেডিক্যাল বুলেটিনে জানানো হয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
CJP-র মুখপাত্র সৌরভ দাস দাবি করেছেন, হাসপাতাল থেকেই ওয়াংচুক আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-যুবদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ওয়াংচুক এখনও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আন্দোলনকারীদের পাশে রয়েছেন।
অন্যদিকে, ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আঙ্গমো আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি এখনও নজরদারিতে রয়েছে। পুলিশ এবং প্রশাসনের তরফে পরবর্তী পদক্ষেপ বা সম্ভাব্য আইনি ব্যবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও অপেক্ষমাণ।