অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে বড় আপডেট দিল রাজ্য সরকার। বুধবার থেকেই শুরু হচ্ছে নতুন এনরোলমেন্ট ও যাচাই প্রক্রিয়া। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে এবার বিশেষ ফর্ম পূরণ করতে হবে উপভোক্তাদের। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন ও পুরসভাগুলিকে এই বিষয়ে জরুরি নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। ফলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের লক্ষ লক্ষ উপভোক্তার নজর এখন নতুন এই ফর্মের দিকে।
মঙ্গলবার কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, স্বাস্থ্যসাথীকে আয়ুষ্মান ভারত এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার বিকেলে নবান্ন থেকে নতুন ফর্ম প্রকাশ করবেন তিনি এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “যত দ্রুত এনরোলমেন্ট হবে, তত দ্রুত সুবিধা পৌঁছে যাবে।”
সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের নতুন করে যাচাই করা হবে। বিশেষ করে যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় নেই, যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, অথবা যাঁদের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত মামলা ট্রাইবুনালে বিচারাধীন— তাঁদের তথ্য আলাদা করে খতিয়ে দেখা হবে। জেলা শাসক, মহকুমাশাসক এবং বিডিওদের এই যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন ফর্মে আবেদনকারীর নাম, আধার নম্বর, অ্যাপ্লিকেশন আইডি এবং বিশেষ কারণ উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে DBT বা Direct Benefit Transfer সক্রিয় থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, আধারের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক না থাকলে টাকা ট্রান্সফারে সমস্যা হতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১ জুন থেকেই ধাপে ধাপে ৩ হাজার টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হবে। তবে সেই টাকা সম্পূর্ণ ট্রান্সফার না হওয়া পর্যন্ত পুরনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকাও চালু থাকবে। অর্থাৎ উপভোক্তারা আপাতত আগের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হবেন না।
এদিকে নির্দেশ প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন ব্যাঙ্ক ও সরকারি অফিসে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। বহু মহিলা ইতিমধ্যেই DBT লিঙ্ক করাতে ছুটছেন। প্রশাসনের একাংশের মতে, নতুন ফর্ম প্রকাশের পর আবেদনকারীর সংখ্যা আরও বাড়বে। ফলে আগামী কয়েকদিন রাজ্যজুড়ে এই প্রকল্প নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।



