বাসভাড়া বাড়লে এসি, ওয়াই-ফাই থেকে CCTV! পুজোর পরেই বড় সিদ্ধান্ত বাংলায়

দুর্গাপুজোর পরে বেসরকারি বাসের ভাড়া পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি বিবেচনা করবে রাজ্য। ভাড়া বাড়লে এসি বাস, ওয়াই-ফাই, CCTV ও ডিজিটাল টিকিটিংয়ের মতো পরিষেবা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বেসরকারি বাসের ভাড়া বাড়ানোর জল্পনার মধ্যেই যাত্রীদের জন্য উন্নত পরিষেবার প্রস্তাব সামনে এসেছে। পরিবহণ দফতরের সঙ্গে বাসমালিকদের বৈঠকের পর জানা যাচ্ছে, ভাড়া পুনর্বিন্যাস হলে বেশি যাত্রী চলাচল করেন এমন রুটে এসি বাস নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বাসে ওয়াই-ফাই, CCTV, ডিজিটাল টিকিটিং এবং UPI-তে ভাড়া মেটানোর মতো পরিষেবাও চালুর কথা ভাবা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরেই বেসরকারি বাসের ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন মালিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং (Arjun Singh) সম্প্রতি বাসমালিকদের সঙ্গে বৈঠকে জানান, দুর্গাপুজোর পরে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে। তবে ভাড়া বাড়ানোর সঙ্গে যাত্রী পরিষেবার মানও উন্নত করতে হবে বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।

বর্তমানে কলকাতা ও শহরতলির সাধারণ বেসরকারি বাসের প্রথম ধাপের সরকারি নির্ধারিত ভাড়া ৭ টাকা। ২০১৮ সালের সরকারি ভাড়া তালিকা অনুযায়ী চার কিলোমিটার পর্যন্ত এই ভাড়া কার্যকর। এরপর দূরত্ব অনুযায়ী ধাপে ধাপে ভাড়া বাড়ে।

বাসমালিকদের বক্তব্য, ২০১৮ সালের পর থেকে সরকারি ভাড়ার কাঠামোয় বড় কোনও পুনর্বিন্যাস হয়নি। এর মধ্যে জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য পরিচালন খরচ বেড়েছে বলে তাঁদের দাবি। সাম্প্রতিক আলোচনায় সংগঠনগুলির একাংশ প্রথম ধাপের ভাড়া আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। তবে ঠিক কত টাকা হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

ভাড়া বাড়লে যাত্রীদের পরিষেবার মানও বাড়াতে হবে—এই বিষয়টিই বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বেশি যাত্রী চলাচল করেন এমন রুটে বেসরকারি উদ্যোগে এসি বাস চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ফলে ভাড়া পুনর্বিন্যাস কার্যকর হলে সাধারণ বাসের পাশাপাশি নির্দিষ্ট রুটে এসি পরিষেবাও বাড়তে পারে।

শুধু এসি বাস নয়, যাত্রীদের দৈনন্দিন যাত্রা আরও প্রযুক্তিনির্ভর করার পরিকল্পনাও রয়েছে। বাসে ফ্রি ওয়াই-ফাই, নিরাপত্তার জন্য CCTV ক্যামেরা এবং ডিজিটাল টিকিটিং মেশিন বসানোর প্রস্তাব রয়েছে। UPI-এর মাধ্যমে ভাড়া দেওয়ার ব্যবস্থাও চালুর কথা বলা হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের মান উন্নত করার বিষয়েও বাসমালিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

বাসমালিক সংগঠনগুলির দাবি, ভাড়া কাঠামো সংশোধন হলে বন্ধ হয়ে যাওয়া বা কম পরিষেবা দেওয়া বিভিন্ন রুটে ফের বাস নামানোর আগ্রহ বাড়বে। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমান খরচের সঙ্গে পুরনো ভাড়ার কাঠামোর সামঞ্জস্য নেই। সরকারি ও বেসরকারি পরিবহণের মধ্যে পরিষেবার পার্থক্য কমানোর বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

অন্যদিকে, যাত্রীস্বার্থের বিষয়টি নিয়েও সতর্ক পরিবহণ দফতর। ভাড়া বাড়ানোর আগে পরিষেবার মান, বাসের রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা এবং যাত্রীদের সুবিধার বিষয়গুলি বিবেচনা করা হবে বলে সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে শুধু বেশি ভাড়া নয়, তার বিনিময়ে কী পরিষেবা মিলবে—এই প্রশ্নটিও এবার আলোচনার কেন্দ্রে।

অল বেঙ্গল বাস ও মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় (Rahul Chattopadhyay) জানিয়েছেন, ভাড়া বাড়লে পরিষেবার মানও উন্নত করার বিষয়ে বাসমালিকদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে এখনই কোনও নির্দিষ্ট নতুন ভাড়া কার্যকর হয়নি। দুর্গাপুজোর পরে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই নজর যাত্রী ও বাসমালিক—দুই পক্ষের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন