নেতাজিকে নিয়ে কটূক্তি, এবার অনন্তর বিরুদ্ধে FIR, বিজেপি সাংসদ কে গ্রেফতারির সাহস দেখাবে পুলিশ?

নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর বঙ্গবিভূষণ হারিয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ, এবার কোচবিহার পুলিশের এফআইআর—গ্রেফতারির সম্ভাবনা নিয়ে বাড়ছে জল্পনা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু (Netaji Subhas Chandra Bose)-কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ক্রমেই চাপ বাড়ছে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজের (Ananta Maharaj) উপর। বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রত্যাহারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে কোচবিহার জেলা পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে। স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

নেতাজির স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি আজাদ হিন্দ ফৌজ (Indian National Army)-কে নিয়েও অনন্তের মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁর বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।

বঙ্গবিভূষণ নিয়ে অবশ্য একটি তথ্য সংশোধন জরুরি, একটি বিভ্রান্তিকর তথ্য ঘুরছে বিভিন্ন মাধ্যমে। অনন্ত মহারাজকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছিল ২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সালে নয়। রাজ্যের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান হিসেবে পরিচিত এই পুরস্কার প্রত্যাহারের কারণ হিসাবে সরকার জানিয়েছে, তাঁর কিছু কার্যকলাপ বিবেচনা করে দেখা গিয়েছে যে তাঁর কাছে সম্মানটি থাকা তার মর্যাদা, প্রতিপত্তি ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এর পরেই বৃহস্পতিবার রাতে সুর নরম করেন অনন্ত। একটি ভিডিয়ো বার্তায় তিনি জানান, নেতাজিকে নিয়ে তাঁর বক্তব্য অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং তাতে কেউ মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। একই সঙ্গে নেতাজির প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

কিন্তু সেই দুঃখপ্রকাশের পরেও আইনি চাপ কাটল না। কোচবিহার পুলিশের দাবি, গত ৭ অগস্ট কোচবিহারের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা অনন্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। নেতাজি সংক্রান্ত তাঁর মন্তব্যের ভিত্তিতেই সেই অভিযোগ করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এবার এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর রাজ্যজুড়ে মোট ৬টি এফআইআর হয়েছে অনন্তর বিরুদ্ধে।

অনন্ত মহারাজের দুঃখপ্রকাশকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখার বার্তা অবশ্য দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, অনন্ত মহারাজ ভিডিও পোস্ট করে দুঃখপ্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ করবেন না বলেও জানিয়েছেন। ফলে তাঁর এই অবস্থানকে ইতিবাচক ভাবে দেখা উচিত।

নেতাজিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও সমাজমাধ্যমে পোস্টের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে পুলিশি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, জাতীয় নেতাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না এবং আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। পুলিশকে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন।

এই বিতর্কে শুধু অনন্তের মন্তব্যই নয়, তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক অভিঘাতও বড় হয়ে উঠেছে। বিজেপির অন্দরেও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রবীণ বিজেপি নেতা তথাগত রায় (Tathagata Roy) প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন, নেতাজি সম্পর্কে অনন্তের মন্তব্যের বিষয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অবহিত কি না।

তবে এফআইআর দায়ের হওয়া মানেই গ্রেফতার নিশ্চিত—এমনটা বলা যায় না। সবথেকে বড় কথা অনন্ত মহারাজ কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসকদল বিজেপির সাংসদ! সেক্ষেত্রে তাঁকে গ্রেফতার করবে কিনা পুলিশ সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে কোন কোন ধারায় মামলা হয়েছে এবং তদন্তের পর পুলিশ গ্রেফতারির পথে এগোয় কি না, সেটিই এখন নজরে।

রাজনৈতিক পরিচয় যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, কোনও অভিযোগের ক্ষেত্রে শেষ কথা বলবে আইন ও তদন্ত প্রক্রিয়াই। বঙ্গবিভূষণ হারানোর পর এফআইআর—পরপর দুই ধাক্কার মুখে এখন অনন্ত মহারাজের সামনে পরবর্তী আইনি লড়াই কতটা কঠিন হয়, সেটাই দেখার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন