সপ্তাহের শেষ ট্রেডিং সেশনে চাপের মুখে খুলল ভারতীয় শেয়ার বাজার। শুক্রবার বাজার খোলার পরই লাল হয়ে যায় দুই প্রধান সূচক। NSE-তে নিফটি ৫০ (Nifty 50) প্রায় ০.৩০ শতাংশ নেমে ২৪,৩২১ পয়েন্টের আশপাশে ছিল, অন্যদিকে BSE সেনসেক্স (BSE Sensex) প্রায় ০.৪০ শতাংশ কমে ৭৭,৭৭০ পয়েন্টের কাছে নেমে আসে। সরকারি বাজার তথ্যেও সকালে নিফটির প্রায় ০.৩০ শতাংশ পতন দেখা গিয়েছে।
বৃহস্পতিবারের মিশ্র ট্রেন্ডের পর শুক্রবারও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতার ছবি স্পষ্ট। আগের সেশনে নিফটি ৫০ ২৪,৩৯৫.৮৫ পয়েন্টে এবং সেনসেক্স ৭৮,০৭৯.৯৬ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছিল। ফলে সপ্তাহের শেষ দিনে শুরুতেই বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা এবং অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি ভারতীয় বাজারের উপর চাপ তৈরি করছে। শুক্রবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপিছু প্রায় ৮৭ ডলারের কাছাকাছি ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ঘিরে উদ্বেগ বাড়ায় তেলের দাম চলতি সপ্তাহে প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে।
শুধু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিই নয়, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সাম্প্রতিক বিক্রিও বাজারের সেন্টিমেন্টে প্রভাব ফেলছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা তিনটি সেশনে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির প্রবণতা দেখা গিয়েছে। ফলে দেশীয় বাজারে নতুন করে কেনাকাটার গতি কিছুটা ধীর হয়েছে।
শুক্রবার বাজার খোলার সময় অধিকাংশ সেক্টরাল ইনডেক্সই চাপের মধ্যে ছিল। বিশেষ করে ধাতু সংক্রান্ত শেয়ারে দুর্বলতা বেশি দেখা যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে অ্যালুমিনিয়াম ও তামার দামে পতনের প্রভাব পড়েছে ধাতু খাতেও। এদিন সকালে নিফটি মেটাল সূচক প্রায় ১.৩ শতাংশ নেমেছিল।
আর্থিক ও ব্যাঙ্কিং শেয়ারগুলিতেও সতর্কতার ছবি দেখা গিয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পছন্দের বড় আর্থিক সংস্থাগুলির শেয়ারে চাপ তৈরি হওয়ায় নিফটি ফিনান্সিয়ালস সূচকও সকালে প্রায় ০.২ শতাংশ কমেছিল।
শেয়ারভিত্তিক লেনদেনেও এদিন বেশ কিছু বড় মুভমেন্ট নজরে এসেছে। টাটা মোটরস প্যাসেঞ্জার ভেহিকলসের শেয়ার প্রায় ৫ শতাংশ কমে নিফটির অন্যতম বড় পতনশীল স্টকে পরিণত হয়। অন্যদিকে শক্তিশালী ত্রৈমাসিক ফল প্রকাশের পর LG Electronics India-র শেয়ারে প্রায় ৭ শতাংশ উত্থান দেখা যায়।
বৃহত্তর বাজারেও খুব একটা স্বস্তির ছবি নেই। শুক্রবারের প্রাথমিক লেনদেনে স্মল-ক্যাপ সূচক প্রায় ০.২ শতাংশ এবং মিড-ক্যাপ সূচক প্রায় ০.৩ শতাংশ নেমেছিল। অর্থাৎ বড় শেয়ারের পাশাপাশি তুলনামূলক ছোট ও মাঝারি সংস্থার শেয়ারেও বিক্রির চাপ রয়েছে।
সব মিলিয়ে সপ্তাহের শেষ ট্রেডিং সেশনে ভারতীয় শেয়ার বাজারে আপাতত সতর্কতার আবহ। উচ্চ ক্রুডের দাম, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমানোর পথেই হাঁটছেন। ফলে দিনের শেষে বাজার কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর ট্রেডারদের।



