স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চে এবার বিশেষ সম্মান পেতে চলেছেন দময়ন্তী সেন (Damayanti Sen)-সহ রাজ্যের ছয় আইপিএস আধিকারিক। কর্মক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে ‘মুখ্যমন্ত্রী মেডেল সম্মান’। ১৫ অগস্টের সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নিজেই এই পুরস্কার তুলে দেবেন বলে জানা গিয়েছে। তালিকায় রয়েছেন অজয় কুমার, নীরজ কুমার সিং, দময়ন্তী সেন, জয়রামন, প্রনব কুমার এবং কুনাল আগরওয়াল।
এই তালিকায় দময়ন্তী সেনের নাম থাকায় বিশেষ তাৎপর্য তৈরি হয়েছে। ২০১২ সালের পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণ মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সেই সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওই তদন্তে তাঁর ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় বড় কোনও মামলার তদন্তের দায়িত্বে তাঁকে সেভাবে দেখা যায়নি বলে দাবি করা হয়।
পার্ক স্ট্রিটের ঘটনার পর দময়ন্তী সেনের কর্মজীবন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও কম হয়নি। তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরকারের আমলে তাঁকে কার্যত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও সেই সময় তাঁর বদলি ও প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়ে একাধিক ব্যাখ্যাও সামনে এসেছিল।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর দময়ন্তী সেনকে ফের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হয়। নারী নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তৈরি কমিটিতেও তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এবার সেই আধিকারিকই স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চে সরকারি সম্মান পেতে চলেছেন।
তবে শুধু দময়ন্তী সেন নন, আরও পাঁচ আইপিএসকে একই অনুষ্ঠানে সম্মান জানানো হবে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অজয় কুমার, নীরজ কুমার সিং, জয়রামন, প্রনব কুমার এবং কুনাল আগরওয়াল। কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা, দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদানের ভিত্তিতেই এই সম্মান দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
তালিকায় থাকা জয়রামনের নাম নিয়েও বিশেষ আলোচনা রয়েছে। দীর্ঘদিনের কর্মজীবনে দক্ষ ও সৎ আধিকারিক হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশের দাবি। দুর্নীতির অভিযোগ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তদন্তে তাঁর ভূমিকা ছিল বলেও জানা যায়।
অন্যদিকে, অজয় কুমারের নামও রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে পরিচিত। বাম আমলে রিজওয়ানুর রহমানের (Rizwanur Rahman) মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সেই তদন্তের সময় তৎকালীন বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের (All India Trinamool Congress) সঙ্গে তাঁর সংঘাত তৈরি হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
বর্তমান সরকারের দাবি, এই সম্মান কোনও রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে নয়, বরং আধিকারিকদের কাজের মূল্যায়ন করেই দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে বার্তা, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যাঁরা দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তাঁদের স্বীকৃতি দেওয়াই এই পুরস্কারের উদ্দেশ্য।
ফলে দময়ন্তী সেন-সহ ছয় আইপিএসের সম্মানপ্রাপ্তির বিষয়টি নিছক একটি সরকারি পুরস্কারেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। অতীতের রাজনৈতিক বিতর্ক, আধিকারিকদের কর্মজীবন এবং বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক নীতির প্রেক্ষাপটেও বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে এই ছয় আধিকারিকের সম্মান গ্রহণ করার কথা। দীর্ঘ কর্মজীবনে নানা বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া এই পুলিশ আধিকারিকদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই ‘মুখ্যমন্ত্রী মেডেল সম্মান’-কে তুলে ধরছে রাজ্য সরকার।



