স্বাধীনতা দিবসে বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর, রেড রোডের অনুষ্ঠানে ডাক বিরোধী জনপ্রতিনিধিদেরও

১৫ অগস্ট রেড রোডে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিরোধী সাংসদ-বিধায়কদেরও আমন্ত্রণ জানাবে শুভেন্দু সরকার। জেলাতেও সব দলের জনপ্রতিনিধিদের ডাকতে প্রশাসনকে নির্দেশ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

স্বাধীনতা দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে এবার বিরোধী জনপ্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগামী ১৫ অগস্ট কলকাতার রেড রোডে স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে শাসক-বিরোধী বাছবিচার না করে সব দলের সাংসদ ও বিধায়কদের আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুধু কলকাতা নয়, একই নির্দেশ পৌঁছে গিয়েছে জেলাগুলিতেও।

রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ সম্মান দিয়ে আমন্ত্রণ জানাতে জেলাশাসক ও মহকুমাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, কোনও জনপ্রতিনিধি শাসকদলের নন বলে তাঁকে বাদ রাখার নীতি এবার থাকছে না। মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চর্চা।

তৃণমূল আমলে সরকারি অনুষ্ঠান এবং প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের না ডাকার অভিযোগ বহুবার সামনে এসেছিল। সেই সময় বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বিরোধী দলের সাংসদ ও বিধায়কদের কেন দূরে রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে কোনও জেলায় বিজেপির জনপ্রতিনিধি থাকা সত্ত্বেও তাঁদের সরকারি বৈঠকে আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছিল বিজেপি।

এবার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই ব্যবস্থাতেই পরিবর্তনের বার্তা দিতে চাইছে নতুন সরকার। গত কয়েক মাসে আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকগুলিতে বিরোধী দলের সাংসদ ও বিধায়কদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে শাসকদলের দাবি। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানেও সেই নীতিই বজায় রাখা হচ্ছে।

বুধবার বিধানসভায় বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, অতীতে রেড রোডের অনুষ্ঠানে শাসকদলের বাইরে থাকা জনপ্রতিনিধিরা আমন্ত্রণ পেতেন না। এবার সেই পরিস্থিতি বদলানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সমস্ত নির্বাচিত সাংসদ ও বিধায়ককে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাতে ইতিমধ্যেই প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু রেড রোডের অনুষ্ঠান নয়, রাজ্যের প্রতিটি জেলাতেও একই নিয়ম কার্যকর হবে। জেলাশাসক এবং মহকুমাশাসকদের বলা হয়েছে, স্বাধীনতা দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে এলাকার সব নির্বাচিত সাংসদ ও বিধায়ককে সম্মানের সঙ্গে আমন্ত্রণ জানাতে হবে। ফলে জেলার অনুষ্ঠানগুলিতেও এবার রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে আমন্ত্রণের ক্ষেত্রে কোনও বিভাজন রাখা হচ্ছে না।

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তৃণমূল শিবিরের পাল্টা কটাক্ষও সামনে এসেছে। কালীঘাট-তৃণমূলের এক মুখপাত্রের দাবি, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে কয়েকজন বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ককে বিরোধী জনপ্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, এই বিধায়করা প্রকৃত অর্থে বিরোধী নন। ফলে সরকারের এই উদ্যোগকে তারা রাজনৈতিক প্রদর্শন বলেই কটাক্ষ করেছে।

যদিও বিজেপির দাবি, সরকারি অনুষ্ঠানে বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক রীতি। দলের এক শীর্ষ নেতার বক্তব্য, বিরোধী দলনেতা হিসেবে যে সমস্যার কথা শুভেন্দু অধিকারী বারবার বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি সেই সমস্যারই পরিবর্তন ঘটাচ্ছেন। রেড রোড থেকে জেলা স্তরের সরকারি অনুষ্ঠান—সর্বত্র একই নীতি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত তারই প্রমাণ বলে বিজেপির দাবি।

এদিকে স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের প্রস্তুতিও জোরকদমে চলছে। ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির আওতায় ইতিমধ্যেই প্রায় ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিলি করা হয়েছে বলে বিধানসভায় জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে ১৫ অগস্টের মূল সরকারি অনুষ্ঠান ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে দেশাত্মবোধক কর্মসূচির আয়োজনও চলছে।

সব মিলিয়ে, রেড রোডের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান এবার শুধু সরকারি কর্মসূচি নয়, রাজনৈতিক সৌজন্য ও প্রশাসনিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের বার্তাও বহন করতে চলেছে। বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্তকে সামনে রেখে শুভেন্দু সরকার অতীতের বিতর্কিত রীতি বদলের যে দাবি করছে, ১৫ অগস্টের অনুষ্ঠানেই তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন