নিউ টাউনে ‘উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার’, হেরিটেজ ওয়াক! জন্মশতবর্ষে মহানায়ককে নিয়ে মহা আয়োজন

মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে বছরভর নানা কর্মসূচি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। নিউ টাউনে ফিল্ম সেন্টার, হেরিটেজ ওয়াক, নন্দনে প্রদর্শনী ও ‘উত্তম মঞ্চ’ আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তমকুমার (Uttam Kumar)-এর জন্মশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে বছরভর একাধিক কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা প্রদর্শনী নয়, মহানায়কের জীবন ও কর্মের সঙ্গে জড়িত জায়গাগুলিকে নিয়ে হবে ‘হেরিটেজ ওয়াক’। নিউ টাউনে তৈরি হবে ‘উত্তমকুমার জন্মশতবার্ষিকী ফিল্ম সেন্টার’। পাশাপাশি নন্দন চত্বর থেকে দক্ষিণ কলকাতার ‘উত্তম মঞ্চ’—সর্বত্রই থাকছে বিশেষ উদ্যোগ।

নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী ৩ সেপ্টেম্বর উত্তমকুমারের স্মরণে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সেই অনুষ্ঠানে বাংলা চলচ্চিত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বছরভর চলবে নানা কর্মসূচি।

উত্তমকুমারের অভিনয় জীবন, তাঁর অভিনীত ছবির পোস্টার, দুর্লভ আলোকচিত্র এবং বিভিন্ন স্মারক নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। মহানায়কের জীবন ও চলচ্চিত্রের নানা অজানা দিক সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরাই এই প্রদর্শনীর অন্যতম উদ্দেশ্য।

কলকাতার নন্দন চত্বরেও তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে উত্তমকুমারকে নিয়ে পৃথক প্রদর্শনী হবে। সেখানে তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, কাজ এবং বাংলা সিনেমায় তাঁর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবকে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।

শুধু প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ থাকছে না সরকারি উদ্যোগ। মহানায়কের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত কলকাতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে যুক্ত করে ‘হেরিটেজ ওয়াক’ আয়োজনের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। এর মাধ্যমে উত্তমকুমারের কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের সঙ্গে জড়িত স্থানগুলির ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হবে।

জন্মশতবর্ষের উদযাপনে যুক্ত হচ্ছে ভারতীয় ডাক বিভাগও। উত্তমকুমারের স্মরণে প্রকাশ করা হবে বিশেষ স্মারক ডাক কভার এবং একটি স্মারক গ্রন্থ। ফলে চলচ্চিত্রের পাশাপাশি সরকারি ভাবে ডাক বিভাগের মাধ্যমেও মহানায়কের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নন্দনের কাছাকাছি একটি প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিল্পী এবং সমালোচকদের নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। সেখানে উত্তমকুমারের অভিনয়শৈলী, বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর প্রভাব এবং বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিসরে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে সবচেয়ে বড় উদ্যোগগুলির মধ্যে অন্যতম নিউ টাউনে ‘উত্তমকুমার জন্মশতবার্ষিকী ফিল্ম সেন্টার’ তৈরির পরিকল্পনা। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে তৈরি হতে চলা এই কেন্দ্রে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতিচর্চার পাশাপাশি আধুনিক বিভিন্ন পরিকাঠামো থাকবে।

এই ফিল্ম সেন্টার ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র গবেষণা, প্রদর্শন, আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মহানায়কের নামে এমন একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি হলে তা তাঁর স্মৃতিকে স্থায়ী ভাবে সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

দক্ষিণ কলকাতাতেও থাকছে আলাদা উদ্যোগ। কলকাতা পুরনিগম পরিচালিত ‘উত্তম মঞ্চ’-এর সৌন্দর্যায়ন ও আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মহানায়কের নামে থাকা এই সাংস্কৃতিক মঞ্চকে আরও উন্নত পরিকাঠামোয় সাজিয়ে তোলাই লক্ষ্য।

উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবকেও। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩২তম আন্তর্জাতিক কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (Kolkata International Film Festival) ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে উৎসবেও মহানায়ককে বিশেষ ভাবে স্মরণ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলা চলচ্চিত্রে উত্তমকুমারের জায়গা শুধু একজন সফল অভিনেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর অভিনয়, পর্দার উপস্থিতি এবং সুচিত্রা সেনের (Suchitra Sen) সঙ্গে জুটি বাংলা সংস্কৃতিতে একটি স্বতন্ত্র আবেগ তৈরি করেছিল। তাই জন্মশতবর্ষে সরকারি উদ্যোগের লক্ষ্য কেবল অতীতকে স্মরণ করা নয়, নতুন প্রজন্মের কাছে মহানায়কের শিল্পসত্তা ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে আরও গভীর ভাবে পৌঁছে দেওয়া।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন