বদলের বাংলায় স্বাধীনতা দিবস উদযাপনেও নতুন রীতি শুরু হতে চলেছে। ১৫ বছর পর ফের ১৫ অগস্ট রাজ্যবাসীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ সম্প্রচারিত হবে। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) ভাষণের পরেই দূরদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বার্তা সম্প্রচার করা হবে। নতুন সরকারের আগামী পাঁচ বছরের কর্মসূচি, অগ্রাধিকার এবং প্রশাসনিক পরিকল্পনার রূপরেখা এই ভাষণে উঠে আসতে পারে।
বিজেপি সূত্রে খবর, প্রায় এক সপ্তাহ আগে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্বাধীনতা দিবসে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বার্তা দেওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। নতুন সরকার গঠনের পর মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে—এই বিষয়টিকে সামনে রেখেই প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়।
কর্মসংস্থান, শিল্প, পরিকাঠামো, আইনশৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক সংস্কার—আগামী দিনে কোন কোন ক্ষেত্রে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিতে চায়, তা মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট করা হতে পারে। ফলে নিছক স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছাবার্তার বদলে এই ভাষণকে সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবেই দেখছে বিজেপি।
শাসকদলের একাংশের বক্তব্য, সরকার গঠনের পর স্বাধীনতা দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন প্রশাসনের প্রথম স্বাধীনতা দিবস হওয়ায় এই ভাষণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
বিজেপির তরফে আরও একটি বিষয় সামনে রাখা হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। দলের যুক্তি, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে স্বাধীনতা দিবসে মুখ্যমন্ত্রীরা সাধারণত রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিয়ে থাকেন। পশ্চিমবঙ্গেও সেই রীতি নতুন করে চালু করা যেতে পারে।
এই প্রস্তাব নিয়ে সরকারের শীর্ষ স্তরে আলোচনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্মতি দেন বলে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবারই তাঁর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ রেকর্ড করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
আগামী শনিবার, ১৫ অগস্ট দূরদর্শনে প্রথমে সম্প্রচারিত হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ। এরপরই রাজ্যবাসীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা সম্প্রচারিত হবে। ফলে জাতীয় স্তরের বার্তার পর সরাসরি রাজ্যের সরকারের বক্তব্য শোনার সুযোগ পাবেন বাংলার মানুষ।
নতুন সরকারের কাছে কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়ন থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক সংস্কার—একাধিক ক্ষেত্রেই বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সেই আবহে মুখ্যমন্ত্রীর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে আগামী পাঁচ বছরের সরকারের লক্ষ্য ও পরিকল্পনার কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।



