বিচারপতি চন্দ মামলা ছাড়তেই ফের হাই কোর্টে টুলু, গ্রেফতারি পরোয়ানা চ্যালেঞ্জ নতুন বেঞ্চে

বিচারপতি কৌশিক চন্দ মামলা ছাড়ার পর শুক্রবার ফের কলকাতা হাই কোর্টে টুলু মণ্ডল, গ্রেফতারি পরোয়ানা চ্যালেঞ্জ করে এবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে আবেদন

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতা হাই কোর্টে ফের মামলা করলেন বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল। তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা চ্যালেঞ্জ করে বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে আবেদন করেছিলেন তিনি। দ্রুত শুনানির আর্জিও জানানো হয়। কিন্তু একই বিষয়ে অন্য একটি বেঞ্চে মামলা বিচারাধীন থাকায় বিচারপতি চন্দ মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। শুক্রবার সেই আবেদন নিয়েই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন টুলু।

টুলুর বিরুদ্ধে আইনি চাপ ক্রমশ বাড়ছে। তাঁর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের মহম্মদবাজারের ডেউচা গ্রামের বাড়ি থেকে নগদ প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধারের পর থেকেই তাঁকে খুঁজছে পুলিশ। মিনারকে গ্রেফতার করা হলেও টুলুর এখনও সন্ধান মেলেনি। ইতিমধ্যে তাঁর একাধিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এই মামলার সূত্রপাত অবশ্য আরও আগে। গ্রেফতারির আশঙ্কায় রক্ষাকবচ চেয়ে প্রথমে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে আবেদন করেছিলেন টুলু। পরে তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলে বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে যান তিনি।

কিন্তু একই বিষয়ে অন্য একটি বেঞ্চে মামলা বিচারাধীন থাকায় বিচারপতি কৌশিক চন্দ (Kaushik Chand) বৃহস্পতিবার মামলাটি ছেড়ে দেন। ফলে নতুন করে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের (Sougat Bhattacharyya) বেঞ্চে আবেদন করতে হয় টুলুকে। তাঁর হয়ে আদালতে সওয়াল করছেন আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য এবং মুকুল রোহতগী।

তবে শুক্রবারই মামলাটির শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আদালতের তালিকা অনুযায়ী, মামলাটি যখন নির্দিষ্ট ক্রমে উঠবে, তখনই শুনানি হবে। সেই হিসাবে আগামী বৃহস্পতিবার মামলাটি বিচারপতি ভট্টাচার্যের বেঞ্চে উঠতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

এর মধ্যেই টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে আরও কড়া আইনি পদক্ষেপ হয়েছে। তাঁর নামে ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিসও জারি হয়েছে। পাশাপাশি সিউড়ির অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত (ACJM Court) তাঁকে ১৪ অগস্ট সকাল ১০টার মধ্যে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির না হলে তাঁকে ‘ঘোষিত অপরাধী’ বা proclaimed offender হিসেবে ঘোষণা করার প্রক্রিয়া এগোতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত-সহ আরও আইনি পদক্ষেপের পথ খুলতে পারে। আদালতে রক্ষাকবচ পাওয়ার চেষ্টা সেই কারণেই টুলুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

বীরভূমের মহম্মদবাজারের ডেউচা এলাকায় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে দীর্ঘ তল্লাশির পর বিপুল নগদ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনাই এই মামলাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে মিনার দাবি করেছিলেন, উদ্ধার হওয়া সম্পত্তি তাঁর নিজের নয়, টুলু মণ্ডলের। এই দাবির পর থেকেই তদন্তকারীদের নজরে টুলুর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

মিনারের গ্রেফতারির পর টুলুর আরও কয়েকজন আত্মীয়কে গ্রেফতার করেছে বীরভূম জেলা পুলিশ। তাঁর শ্বশুরবাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে টুলুকে পলাতক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাঁকে খুঁজে পেতে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁর সিউড়ির বাড়িতে আদালতের হুলিয়ার নোটিসও সাঁটানো হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকায় টুলুকে আর দেখা যায়নি। তিনি কোথায় রয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে প্রকাশ্যে না এসেও একের পর এক আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে কলকাতা হাই কোর্টে নিজের আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

এখন নজর মূলত কলকাতা হাই কোর্টের পরবর্তী শুনানির দিকে। গ্রেফতারি পরোয়ানা চ্যালেঞ্জ করে টুলু মণ্ডলের আবেদন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে উঠলে তাঁর পক্ষে কী আইনি যুক্তি দেওয়া হয় এবং আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে সিউড়ি আদালতের হাজিরার নির্দেশ এবং তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া রেড কর্নার নোটিসের প্রেক্ষিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েও তৈরি হয়েছে নজর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন