বঙ্গবিভূষণ হাতছাড়া হতেই সুরবদল, নেতাজি মন্তব্যে দুঃখপ্রকাশ অনন্ত মহারাজের

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রত্যাহার রাজ্য সরকারের। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দুঃখপ্রকাশ করলেন অনন্ত মহারাজ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু (Subhas Chandra Bose) সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুর নরম করলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ (Ananta Maharaj)। বঙ্গবিভূষণ সম্মান রাজ্য সরকার প্রত্যাহার করার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বার্তা দিয়ে দুঃখপ্রকাশ করলেন তিনি। অনন্ত মহারাজের বক্তব্য, নেতাজি সম্পর্কে তাঁর কিছু অনিচ্ছাকৃত মন্তব্যে কেউ মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।

নগেন্দ্র রায় তথা অনন্ত মহারাজ সম্প্রতি নেতাজির ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে একাধিক দাবি করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু ও কংগ্রেসের ভূমিকার পাশাপাশি কোচবিহারের মহারাজার অবদান যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

নেতাজি প্রসঙ্গে অনন্ত মহারাজের মন্তব্যের একটি অংশ নিয়েই সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়। তিনি দাবি করেছিলেন, কোচবিহারের মহারাজা হিটলার ও আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাজিত করেছিলেন এবং ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের নেতাজির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্যে নেতাজির নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। নেতাজিকে নিয়ে কোনও ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না বলে আগেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানিয়েছিলেন, নেতাজির সম্মান নিয়ে আপস করা হবে না।

এরপর বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকার অনন্ত মহারাজকে দেওয়া ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। উল্লেখযোগ্য বিষয়, আগের সরকারের আমলেই অনন্ত মহারাজকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছিল। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের পরই বিতর্ক আরও তীব্র আকার নেয়।

প্রথমে অবশ্য নিজের বক্তব্যের পক্ষে সাফাই দিয়েছিলেন অনন্ত মহারাজ। তাঁর দাবি ছিল, তিনি নেতাজিকে অপমান করেননি। যে ঐতিহাসিক সময়ের কথা বলেছেন, তখন তাঁর জন্মই হয়নি বলেও যুক্তি দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত কুৎসা বা গালাগাল করেননি; ইতিহাসে থাকা তথ্যই সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন।

এমনকি কোনও অন্যায় হয়ে থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। ফলে বঙ্গবিভূষণ প্রত্যাহারের পরও নিজের অবস্থান থেকে সরছেন না বলেই মনে হয়েছিল।

কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেল সুর। ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় অনন্ত মহারাজ নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে নিজের মন্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নেতাজি সম্পর্কে তাঁর কিছু অনিচ্ছাকৃত বক্তব্যে কেউ মানসিক ভাবে আঘাত পেয়ে থাকলে তার জন্য তিনি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।

অনন্ত মহারাজের এই দুঃখপ্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বঙ্গবিভূষণ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পরই তাঁর অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও নিজের ভিডিও বার্তায় তিনি কোনও রাজনৈতিক চাপ বা সরকারি সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেননি।

নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য এবং তার পরেই রাজ্য সরকারের পুরস্কার প্রত্যাহার—এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বেড়েছে। এবার প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশের পর পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন