আমাদের পাড়া কর্মসূচিতে রাজ্যজুড়ে রেকর্ড সাড়া, প্রথম পর্বেই সাফল্য

‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির প্রথম দিনেই অংশ নিলেন ১.৭৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ, রাজ্যজুড়ে শুরু হল জনসংযোগের নতুন অধ্যায়

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্য সরকারের নতুন জনমুখী উদ্যোগ ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি শুরু হতেই রাজ্যজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অভূতপূর্ব সাড়া। আমাদের পাড়া কর্মসূচি-র মাধ্যমে রাজ্যবাসীর স্থানীয় সমস্যার সরাসরি সমাধান এবং প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি জনসংযোগ স্থাপনের এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য।

শুরুতেই সাফল্যের মুখ দেখল এই প্রকল্প। শনিবার রাজ্যজুড়ে আয়োজিত হয়েছিল ৬৩২টি শিবির, যেখানে অংশ নিয়েছেন প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। শুধুমাত্র একটি দিনেই এই পরিসংখ্যান রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট আশাবাদের সঞ্চার করেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বার্তায় সরাসরি যোগাযোগের বার্তা

প্রকল্পের সূচনার দিনেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বার্তা দিয়ে জানান, “বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছনোর জন্য আমরা শুরু করলাম এক নতুন অধ্যায়।” তাঁর মতে, ‘আমাদের পাড়া কর্মসূচি’ শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, বরং এটি রাজ্যবাসীর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে গঠিত উন্নয়নের এক নতুন দিকচিহ্ন।

মুখ্যমন্ত্রীর নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেও এই কর্মসূচিতে মানুষের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। কলকাতা পুরসভার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের শিবিরে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও স্থানীয় কাউন্সিলর অসীম বসু।

সরকারি পরিষেবা এক ছাতার নিচে

এই কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হল—জনগণের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনা এবং দ্রুততার সঙ্গে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া। প্রত্যেকটি শিবিরে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা, যাঁরা স্থানীয় মানুষের কথা শুনে তা গুরুত্ব অনুযায়ী তালিকাভুক্ত করেছেন। প্রতিটি তিনটি বুথ মিলে একটি করে ক্যাম্পে রূপান্তর করা হয়েছে, যেখানে মানুষ সরাসরি জানাতে পারছেন কোন সমস্যার সমাধান অগ্রাধিকার পাবে।

এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘দুয়ারে সরকার’-এর পরিষেবাও। ফলে নাগরিকেরা একই ছাতার নিচে পাচ্ছেন নথিপত্র সংক্রান্ত সহায়তা, সরকারি প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য এবং নিজেদের সমস্যা জানানোর সুযোগ।

উন্নয়নের খতিয়ান স্থানীয়দের হাতে

রাজ্য সরকার জানিয়েছে, আমাদের পাড়া কর্মসূচি-র অধীনে প্রতিটি বুথে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ থাকবে। কোন সমস্যার সমাধানে সেই অর্থ ব্যয় হবে, তা ঠিক করবেন সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ নিজেরাই। এই উদ্যোগ প্রকৃত অর্থেই জনগণের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার এক বাস্তব রূপ।

প্রথম ধাপে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। রাজ্যের প্রতিটি বুথে পরবর্তীতে ৮০ হাজারেরও বেশি শিবির আয়োজন করা হবে এবং প্রথম পর্যায়ে আয়োজিত হবে ২৭ হাজার ‘জনতার দরবার’।

জনমুখী প্রশাসনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করল রাজ্য

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে রাজ্যের প্রশাসনিক স্তর পর্যন্ত এই কর্মসূচির সাফল্যে খুশি সকলে। তারা বলছে, এই প্রকল্প রাজ্যবাসীর সঙ্গে সরাসরি প্রশাসনিক সংযোগ গড়ে তুলবে, যার মাধ্যমে স্থানীয় স্তরে উন্নয়নমূলক কাজ আরও বেশি কার্যকরী হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সরকার এখন আর শুধু অফিসে বসে থাকবে না, এবার মানুষ নিজের পাড়াতেই সরকারকে খুঁজে পাবে।” এই বার্তায় স্পষ্ট, রাজ্য সরকার মানুষকে কাছ থেকে জানার এবং তাঁদের সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে।

আমাদের পাড়া কর্মসূচি হয়ে উঠতে চলেছে গোটা দেশের জন্য এক দৃষ্টান্ত। একদিনেই যে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ঘটেছে, তা প্রমাণ করে এই প্রকল্প মানুষের ভিতর আস্থার বাতাবরণ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত