নজরবন্দি ব্যুরো: বিভীষিকাময় সেই রাত এখনও সকলের মনে আতঙ্ক বজায় রেখেছে! যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শেষ হয়েছে বালেশ্বরে দুর্ঘটনাস্থলের উদ্ধারকাজ। দুর্ঘটনাস্থল থেকে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া কামরাগুলি সরানো হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার কারণেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ওই রুটের রেল চলাচল পরিষেবা। বেশ কয়েকদিন ধরেই একাধিক ট্রেন বাতিল করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। তবে এখনই কাজ শেষ হয়নি বলেই জানিয়েছে রেলমন্ত্রী। যতক্ষণ না পর্যন্ত নিখোঁজদের বাড়ি পাঠানো হচ্ছে ততক্ষণ কাজ চলবে।
আরও পড়ুন: Abhishek-র পদযাত্রার পাল্টা কর্মসূচী শুভেন্দুর, ফের সরগরম নন্দীগ্রাম


অন্যদিকে, ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৮৮ জন যাত্রী। আহত ৭০০-রও বেশি। বর্তমানে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন অনেকেই। কিন্তু এদিকে হাসপাতালের মর্গের বাইরে চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ট্রেন দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের পরিবার পরিজনরা তাঁদের খুঁজতে যেমন লড়াই করছেন! ঠিক উল্টোদিকে, অনেকেই আবার দাবি করেছেন যে, তাদের কাছে অন্য কারোর পরিবারের সদস্যের মৃতদেহ তুলে দেওয়া হয়েছে। আর অন্য কারোর পরিবারের মৃতদেহ তাঁদের কাছে! অর্থাৎ ট্রেন দুর্ঘটনায় দেহ অদল-বদলের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে চিহ্নিতকরণ এখন অন্যতম বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এপ্রসঙ্গে গতকালই ওড়িশা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়ে যে, দুর্ঘটনায় নিহতদের দেহের ডিএনএ পরীক্ষা করানোর পরই পরিবারের হাতে দেহ হস্তান্তর করা হবে। কিন্তু এবার প্রশ্ন উঠেছে যাঁরা বলছেন, দেহ অদল-বদল হয়ে গিয়েছে, এবার তাঁদের কী হবে? এপ্রঙ্গে ভুবনেশ্বর মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের কমিশনার জানিয়েছেন যে, নিহতের কাছের আত্মীয় নন বা তাঁদের মধ্যে কোনও রক্তের সম্পর্ক নেই, এই রকম অনেকেই আসছেন। যার ফলে দেহ শনাক্তকরণে দেরি হচ্ছে। তবে এবার থেকে ডিএনএ পরীক্ষার না করিয়ে কোনও ভাবেই দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে না।



প্রসঙ্গত, করমণ্ডলে প্রায় কয়েক হাজার যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ওড়িশার হাসপাতালে ভর্তি ১১০০-রও বেশি যাত্রী। সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছেন অনেকেই। অন্যদিকে, যাদের পরিবারের লোকজনেরা ওই এক্সপ্রেসে ছিলেন, তাদের খোঁজ চালাচ্ছেন অনেকেই। এহেন পরিস্থিতিতে রেল দুর্ঘটনায় আহতদের খোঁজ পেতেই ওড়িশা সরকারের তরফে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, আজ ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক ঘোষণা করলেন যে, বালেশ্বরের দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি গুরুতর আহত হয়েছেন যারা, তাদের ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
Balasore ট্রেন দুর্ঘটনায় দেহ অদল-বদলের অভিযোগ, ডিএনএ পরীক্ষা করানোর পরই পরিবারের হাতে দেহ হস্তান্তর করা হবে








