নজরবন্দি ব্যুরো: “চোখ খুলে ওর মুখটা দেখেই একটা অদ্ভুত শান্তি পেয়েছিলাম”- এক অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে সব্যসাচী চৌধুরী প্রসঙ্গে এমন মন্তব্যই করেছিলেন ঐন্দ্রিলা শর্মা। কিছু কিছু সম্পর্ক থাকে যা আশেপাশের মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে পৌঁছয়। বর্তমানের ব্যস্ত জীবনে যখন আলাদা হয়ে যাওয়ার খবরই বেশি আসে, তখন টলিউডের দুই তারকা দেখিয়ে দিয়েছেন এভাবেও ভালো থাকা যায়।
আরও পড়ুন: তোমার সব্য’কে আগলে রাখব, বন্ধু ঐন্দ্রিলাকে কথা দিলেন সৌরভ


বিপদে আঁকড়ে ধরা যায় একে-অন্যের হাত। সবটুকু দিয়েও ভালোবাসা যায়। সেটা বারবার প্রমাণ করে দিয়েছেন অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা (Aindrila Sharma) আর সব্যসাচী চৌধুরী (Sabyasachi Chowdhury)-র। ঐন্দ্রিলা আর সব্যসাচীর নজিরবিহীন ভালবাসা। তাদের আলাপ ২০১৭ সালে কালার্স বাংলার ঝুমুর ধারাবাহিকের সেটে। আর সেই সময় ঐন্দ্রিলা সবে মাত্র প্রথমবার ক্যান্সার জয় করে ফিরেছিলেন। আর এই সিরিয়ালের হাত ধরেই তাঁদের ভালবাসা শুরু হয়। ঝুমুর সিরিয়ালে সব্যসাচী ছিলেন ঐন্দ্রিলার বিপরীতে। তাঁদের অনস্ক্রীন কেমিস্ট্রি সকলকে মুগ্ধ করেছিল।

প্রেমে পড়লে একে অপরকে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু বর্তমানে কতজনেই বা সেই প্রতিশ্রুতি রাখে। এই ছেড়ে যাওয়ার দুনিয়ায় ঐন্দ্রিলার পাশে সবসময় থেকেছিলেন সব্যসাচী। সালটা ২০২১ যখন ঐন্দ্রিলা শর্মা ফের ক্যানসারে আক্রান্ত হলেন, সেই সময় তাঁর হাত শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন সব্যসাচী। গোটা লড়াইয়ে তাঁর সহযোদ্ধা ছিলেন তিনি। বন্ধুকে খাইয়ে দিয়েছেন। গল্প পড়ে শুনিয়েছেন। ছোট ছোট ইচ্ছেগুলো পূরণ করেছেন। কঠিন মুহূর্তে তাঁর অবলম্বন হয়ে উঠেছেন। যা দেখে অনেকেই প্রশ্ন করছেন, “এভাবেও ভালোবাসা যায়?”
সব্যসাচীর মনে অমলিন ঐন্দ্রিলা, শিখিয়ে গেল রূপকথার প্রেম
৩১শে অক্টোবর সব্যসাচীকে নিয়ে শেষবারের মত পোস্ট করেছিলেন ঐন্দ্রিলা। তিনি লিখেছিলেন, “সব্যসাচী আমার বেঁচে থাকার কারণ”। তারপরেই ১লা নভেম্বর অভিনেত্রী ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তাঁর এই তৃতীয়বার মৃত্যু যুদ্ধে ২০দিন ধরে সবসময় পাশে ছিলেন সব্যসাচী। কিন্তু শেষে আর ঐন্দ্রিলার ফেরা হল না সব্যসাচীর কাছে। না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি। কিন্তু থেকে গেল ঐন্দ্রিলা- সব্যসাচীর ভালোবাসা।









