ভোটের মুখে হঠাৎ আইপ্যাক ডিরেক্টরের গ্রেপ্তারি ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ছড়াল বাংলায়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই পদক্ষেপকে ‘হিমশীতল বার্তা’ বলে আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীপক্ষে কাজ করলেই টার্গেট করা হচ্ছে—যা গণতন্ত্রের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
সোমবার রাতে কয়লা পাচার মামলায় দিল্লি থেকে আইপ্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেলকে গ্রেপ্তার করে Enforcement Directorate (ইডি)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে।


উল্লেখযোগ্যভাবে, আইপ্যাক রাজ্যের শাসকদল All India Trinamool Congress-এর রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা। ফলে বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র দশ দিন আগে এই গ্রেপ্তারি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। শাসকদলের দাবি, এটি নিছক তদন্ত নয়, বরং পরিকল্পিত রাজনৈতিক পদক্ষেপ।
ঘটনার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, “এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিচ্ছে—যদি আপনি বিরোধী শিবিরে থাকেন, তাহলে পরবর্তী টার্গেট আপনিই।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, বড় বড় আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখানো হলেও বিরোধী দল এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এখানেই থেমে থাকেননি তৃণমূল নেতা। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন Election Commission of India-এর ভূমিকা নিয়েও। তাঁর দাবি, যেখানে নির্বাচন কমিশনের কাজ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, সেখানে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে।


পোস্টের শেষভাগে সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপি নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন তিনি। অভিষেকের কথায়, “৪ ও ৫ মে বাংলায় থাকুন। আপনারা যে সব সংস্থা মোতায়েন করেছেন, তাদেরও নিয়ে আসুন। বাংলার মানুষ আপনাদের উপযুক্ত জবাব দেবে।”
আগামী ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণা হওয়ার কথা। তৃণমূল শিবির ইতিমধ্যেই বিপুল জনসমর্থনের দাবি করছে। সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই এমন রাজনৈতিক পাল্টা বার্তা এসেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।








