মধ্যপ্রাচ্যে ফের অশান্তির ইঙ্গিত স্পষ্ট। যুদ্ধবিরতির সময়সীমা ফুরোনোর আগেই কড়া বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর সাফ কথা—নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শান্তি চুক্তি না হলে আবারও ইরানের রাজধানী তেহরানে বোমাবর্ষণ শুরু করতে পারে মার্কিন বায়ুসেনা। এই হুঁশিয়ারির পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
শুক্রবার অ্যারিজোনা থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে বিমানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি আর যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর পক্ষপাতী নন। তাঁর বক্তব্য, ইরানের বন্দর কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে, এবং পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে আমেরিকা ফের সামরিক পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।
আগামী ২১ এপ্রিল শেষ হচ্ছে সাময়িক সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ। তার আগের দিন, ২০ এপ্রিল ইসলামাবাদ-এ ফের শান্তি বৈঠকে বসার কথা দুই পক্ষের। জানা গেছে, রবিবারের মধ্যেই প্রতিনিধি দল সেখানে পৌঁছে যাবে। এর আগে ১১ এপ্রিল একই শহরে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার বৈঠক হলেও কোনও সুরাহা মেলেনি। সেই অচলাবস্থা কাটানোর লক্ষ্যেই নতুন করে আলোচনা হলেও, সমাধান মিলবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিয়েছে হরমুজ প্রণালী ইস্যু। দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকার পর ইরান ঘোষণা করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালী খুলে দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে যার প্রভাব পড়ার কথা। তবে এই ঘোষণার পরেও ট্রাম্পের অবস্থান দ্বিধাবিভক্ত। একদিকে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন, অন্যদিকে জানিয়েছেন—চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমেরিকা প্রণালী কার্যত নিয়ন্ত্রণেই রাখবে।
ওয়াশিংটনের এই কড়া অবস্থানের তীব্র সমালোনা করেছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ দাবি করেছেন, ট্রাম্পের একাধিক বক্তব্য বিভ্রান্তিকর ও অসত্য। তাঁর অভিযোগ, স্বল্প সময়ের মধ্যেই একাধিক দাবি তুলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফল এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের আগুন জ্বলে ওঠার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।



