প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ হয়েও পেনশন নিতে অস্বীকার করলেন আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা ইতিমধ্যেই চিঠি দিয়ে রাজ্যসভার সচিবালয়কে জানিয়েছেন তিনি। ভোটের মুখে তাঁর এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক মহল তো বটেই, দলীয় অন্দরেও শুরু হয়েছে আলোচনা।
সাধারণত সিপিএমের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও জনপ্রতিনিধি বেতন বা ভাতা পেলে তা পার্টির তহবিলে জমা দিতে হয়। এমনকি প্রাক্তন সাংসদ বা বিধায়কের পেনশনও দলের হাতে তুলে দেওয়ার রীতি রয়েছে। সেই অর্থ থেকেই পার্টির সর্বক্ষণের কর্মীদের পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। যেমন মহম্মদ সেলিম, সুজন চক্রবর্তী, শমীক লাহিড়ী বা রামচন্দ্র ডোম— সকলে তাঁদের পেনশন দলকেই দিয়েছেন।


এই প্রেক্ষাপটে বিকাশরঞ্জনের সিদ্ধান্তকে অনেকেই ব্যতিক্রমী বলছেন। কারণ, তিনি পেনশনই নেবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। ফলে দলের নিয়ম মেনে সেই অর্থ জমা দেওয়ার প্রশ্নই উঠছে না। কেন তিনি এই পথ বেছে নিলেন, তা নিয়েই পার্টির অন্দরে নানা প্রশ্ন উঠছে।
এই বিষয়ে নিজেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বিকাশ ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, “আমার পেনশনের প্রয়োজন নেই, তাই নেব না। সব সিদ্ধান্তে পার্টির অনুমোদন লাগে না— এটা আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।”
২০২০ সাল থেকে রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন তিনি। সম্প্রতি তাঁর মেয়াদ শেষ হয়েছে। বর্তমানে তিনি যাদবপুর কেন্দ্র থেকে সিপিএম প্রার্থী হিসেবে বিধানসভা নির্বাচনে লড়ছেন।


নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, আর্থিক দিক থেকেও তিনি যথেষ্ট স্বচ্ছল। চলতি অর্থবর্ষে তাঁর আয় ২ কোটির বেশি। বিভিন্ন ব্যাঙ্কে কয়েক কোটি টাকার সঞ্চয়, একাধিক বিনিয়োগ এবং দুটি গাড়ি— যার মধ্যে একটি বিলাসবহুল গাড়িও রয়েছে। মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১৪ কোটিরও বেশি।
এই প্রেক্ষাপটে তাঁর পেনশন না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে একাংশ ‘নৈতিক বার্তা’ হিসেবে দেখছেন, আবার অন্য অংশের মতে এটি দলের প্রচলিত রীতির বাইরে একটি পদক্ষেপ। তবে শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।








