লোকসভায় ধাক্কা! সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়ে ভেস্তে গেল মহিলা সংরক্ষণ বিল

লোকসভায় সংখ্যার লড়াইয়ে হার কেন্দ্রের। মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ না হওয়ায় সরকার-বিরোধী সংঘাত আরও তীব্র, ভোট রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কেন্দ্রের জোরদার প্রচেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত লোকসভায় পাশ হল না বহু প্রতীক্ষিত মহিলা সংরক্ষণ বিল। দীর্ঘ আলোচনা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর শুক্রবার ভোটাভুটিতে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না মেলায় থমকে গেল ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-এর নতুন রূপ। বিলের পক্ষে ভোট পড়েছে ২৯৮টি, বিপক্ষে ২৩০টি—ফলে স্পষ্ট, সংখ্যার অঙ্কেই আটকে গেল কেন্দ্রের বড় রাজনৈতিক পরিকল্পনা।

তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে এই বিলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ। সরকার পক্ষের লক্ষ্য ছিল লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সংক্রান্ত আইন সংশোধনের প্রস্তাব। কিন্তু বিরোধী শিবিরের দাবি, এই উদ্যোগের আড়ালে দেশের নির্বাচনী মানচিত্রে বড়সড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ভোটাভুটির ফলাফল থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়, বিরোধীরা একজোট হয়ে সরকারের পথ রুখে দিয়েছে। বিল পাশ করাতে প্রয়োজন ছিল ৩৫২টি ভোট, কিন্তু সেই লক্ষ্য থেকে অনেকটাই পিছিয়ে থাকে সরকার। যদিও আগে থেকেই সরকার পক্ষ বুঝতে পেরেছিল, এই লড়াই সহজ হবে না। শেষ মুহূর্তে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “আমাদের উপর ভরসা রাখুন, এই বিল পাশ হতে দিন।”

বিল পাশ না হওয়ায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী Kiren Rijiju ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “এটি ছিল মহিলাদের উন্নয়নের বিল, এর বিরোধিতা মানে নারী শক্তির বিরোধিতা।” অন্যদিকে বিরোধী শিবিরও পালটা আক্রমণে শান দেয়। কংগ্রেস নেত্রী Priyanka Gandhi কড়া ভাষায় বলেন, “যাদের অতীতে মহিলাদের প্রতি আচরণ প্রশ্নের মুখে, তাদের কাছ থেকে উন্নয়নের কথা শোনা যায় না।”

এই বিতর্কের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন। তিনি দাবি করেন, আসন পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব এবং ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সরকার যদি সত্যিই মহিলাদের উন্নয়নে আন্তরিক হয়, তবে আগেই সর্বসম্মতিতে পাশ হওয়া বিল কার্যকর করা উচিত।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ ইতিমধ্যেই সংসদে পাশ হয়েছিল, যেখানে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের কথা বলা হয়। তবে সেই বিল কার্যকর করতে জনগণনার পর আসন পুনর্বিন্যাসের শর্ত ছিল। বর্তমান প্রস্তাবে সেই পথ বদলে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের কথা বলা হয়েছে, যা নিয়েই মূল আপত্তি বিরোধীদের।

সব মিলিয়ে, এই বিল ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হল। কেন্দ্র ও বিরোধীদের এই সংঘর্ষ আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর