নজরবন্দি ব্যুরো: নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় আহত তৃণমূল কর্মীদের দেখতে এসএসকেএম হাসপাতালে গেলেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে এসএসকেএমের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে আহতদের সঙ্গে কথা বলার পর উডবার্ন ব্লকে যান ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। আহতদের পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। প্রায় ১ ঘন্টার কাছাকাছি অভিষেক এসএসকেএমেই ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এদিন এসএসকেএম থেকে বেরিয়ে আদালতের অপর ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড। তাঁর কথায়, সমাজবিরোধীদের মদত দিচ্ছে হাইকোর্ট!
আরও পড়ুন: রাখে হরি তো মারে কে! তৃণমূলের খুঁটিপুজো সেরেই কেন এমন সুর সায়নীর গলায়?


শুক্রবার এসএসকেএম থেকে বেরিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি ১৪ প্রত্যেক আহত কর্মীদের সাথে ব্যক্তিগত ভাবে দেখা করেছি। নন্দীগ্রামে বিজেপির পায়ের তোলার মাটি সরে গিয়েছে। সেখানে বাড়ির মহিলা, বাচ্চাদের হুমকি দিচ্ছে তাঁরা। বাড়ি ছাড়া করেছে অনেককে। মহিলাদের খুন-ধর্ষণের ভয় দেখানো হচ্ছে। আমি কুড়ি জনের লিখিত নাম নিয়ে যাচ্ছি। মুখ্যমন্ত্রীকে এই নামগুলো দেব’।
অভিষেক আরও বলেন, ‘হাইকোর্ট সমাজবিরোধীদের মদত দিচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের হাত পা বেঁধে দিয়েছে হাইকোর্ট। হাইকোর্ট সমাজবিরোধীদের মদত দিচ্ছে। আমি আদালতের বিরুদ্ধে মুখ খুলছি বলে আমাকে যা খুশি তাই করতে পারে। কিন্তু মাত্র একজনের জন্য হাইকোর্টের নাম খারাপ হচ্ছে। তিনি হলেন রাজাশেখর মান্থার। দিল্লি থেকে নির্দেশ আসছে তাঁর কাছে। বিরোধীরা যা বলছে সেই কেস নিয়ে নিচ্ছে। এসব করে কী হবে? রাজনৈতিক লড়াই ভুলে গিয়েছে বিজেপি। বিজেপি ভাবছে গায়ের জোরে ইডি সিবিআই লাগিয়ে বাংলা দখল করব’।



একই সঙ্গে এদিন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে উদ্দেশ্য করে অভিষেক বলেন, ‘একবারও এঁদের সাথে দেখা করতে এসেছে রাজ্যপাল? কেন এরা তৃণমূল করে বলে? বিচারব্যবস্থাকে অচল করেছে। রাজাশেখর মান্থার সমাজবিরোধী বিজেপি কর্মীদের রক্ষাকবচ দিয়ে রেখেছে। কেউ যদি মনে করে সত্য কথা বলার জন্য আমার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা হয়েছে তার জন্য যে শাস্তিই হোক আমি মেনে নেব’।

প্রসঙ্গত, বুধবার নন্দীগ্রাম-২ নম্বর ব্লকের ভেকুটিয়ায় সংঘর্ষ হয় তৃণমূল ও বিজেপি দু’দলের মধ্যে। যে ঘটনায় তৃণমূলের ১৪ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার তাঁদের এসএসকেএমে নিয়ে আসা হয়। ভর্তি করানোর সময় উপস্থিত ছিলেন রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা নন্দীগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কুণাল ঘোষ। এদিন কুণাল ঘোষ পুলিশের উপর রীতিমতো ক্ষোভ উগড়ে দেন। কুণাল ঘোষ ছাড়াও পুলিশের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের যুব নেতা সুদীপ রাহা। এতদিন বিরোধীদের দেখা যেত তাঁরা পুলিশের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করতে। এবার শাসক দলের গলাতেও একই সুর।
পঞ্চায়েতের ফলফল প্রকাশ হতেই দেখা গেল, নন্দীগ্রামের দুটি ব্লক দুই দলের দখলে। একদিকে, নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে জিতল তৃণমূল আর ২ নম্বর ব্লকের অধিকাংশ আসন গেল বিজেপির দখলে। আর সেই নিয়েই উত্তপ্ত হয় নন্দীগ্রামের পরিস্থিতি। শুধু পঞ্চায়েত থেকে নয়, সেই একুশের বিধানসভায় শুভেন্দু বনাম মমতা যুদ্ধ শুরু হবার পর থেকেই বারংবার শিরোনামে থেকেছে নন্দীগ্রাম।
সমাজবিরোধীদের মদত দিচ্ছে হাইকোর্ট! SSKM থেকে বেরিয়ে মন্তব্য অভিষেকের








