মুর্শিদাবাদের কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত বহরমপুরে এবার পাল্টে গেল রাজনৈতিক সমীকরণ। বহু বছরের অভিজ্ঞ নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী-কে প্রায় ১৭ হাজার ভোটে হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নিলেন বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্র। এই ফল শুধু একটি আসনের বদল নয়, বরং জেলার রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ফল ঘোষণার পর অধীরের প্রতিক্রিয়ায় ছিল এক ধরনের নির্লিপ্ততা। তিনি বলেন, “জনগণ তাঁদের রায় দিয়ে দিয়েছেন। বেশি ভেবে তো আর ফল বদলানো যাবে না।” দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে এমন শান্ত ও সংযত প্রতিক্রিয়া তাঁর ক্ষেত্রে বিরল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।


অধীর চৌধুরীর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯৬ সালে, নবগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয় দিয়ে। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জাতীয় রাজনীতিতে উঠে আসেন। ১৯৯৯ সালে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ হয়ে দিল্লির রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পান। এরপর টানা পাঁচবার ওই কেন্দ্র থেকে জিতে নিজের শক্ত ঘাঁটি তৈরি করেছিলেন।
তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী ইউসুফ পাঠান-এর কাছে হার তাঁর রাজনৈতিক গ্রাফে বড় ধাক্কা দেয়। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের বিধানসভা নির্বাচন ছিল তাঁর কাছে সম্মানের লড়াই। কিন্তু সেই লড়াইয়েও ব্যর্থ হওয়ায় এখন প্রশ্ন উঠছে—রাজ্যের রাজনীতিতে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে।
অন্যদিকে, বিজেপির এই জয়কে দলীয় কর্মীরা ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে দেখছেন। বহরমপুরের মতো ঐতিহ্যবাহী কংগ্রেস ঘাঁটিতে গেরুয়া শিবিরের এই সাফল্য ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুন করে সাজিয়ে দিতে পারে।









