ভাঙড়ে শেষ হাসি নওশাদের, শেষ রাউন্ডে শওকতকে উড়িয়ে ‘ভাইজান’ ম্যাজিক

শুরুতে পিছিয়ে থেকেও শেষ দিকে দাপট বাড়িয়ে বিপুল ব্যবধানে জয় নওশাদের, ভাঙড়ে তৃণমূলের কৌশল নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোট গণনার শুরুতে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত দাপুটে প্রত্যাবর্তন—ভাঙড়ে আবার নিজের শক্ত ঘাঁটির প্রমাণ দিলেন নওশাদ সিদ্দিকী। রাউন্ড গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেল পুরো চিত্রনাট্য, আর শেষদিকে বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ‘ভাইজান’ শিবিরে উৎসবের আবহ। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে জয়ের উচ্ছ্বাস।

গণনার প্রথম দিকেই কিছুটা এগিয়ে থেকে লড়াই জমিয়ে তুলেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই লড়াই একপেশে হয়ে ওঠে। রাউন্ড বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নওশাদের ভোটের ব্যবধান ক্রমেই বাড়তে থাকে। ১২ রাউন্ড শেষে তিনি প্রায় ২৮ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে গিয়ে কার্যত জয় নিশ্চিত করে ফেলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্যানিং পূর্ব থেকে শওকত মোল্লাকে ভাঙড়ে প্রার্থী করা তৃণমূলের কৌশলগত ভুল হিসেবে দেখা দিচ্ছে। নিজের পরিচিত এলাকা ছেড়ে নতুন ময়দানে নেমে নওশাদের সাংগঠনিক শক্তির সামনে কার্যত টিকতে পারেননি তিনি। এই ফলের পর তৃণমূলের অন্দরেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ভোটের দিন মাঠে নেমে সক্রিয়ভাবে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন নওশাদ। বিভিন্ন বুথ ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। কোথাও কোথাও শাসকদলের সমর্থকদের স্লোগানকেও তিনি হালকা হাসিতে উড়িয়ে দেন। এমনকি এক পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “মারবে নাকি? তা হলে মারো।” যদিও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়নি, নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।

পরে তিনি শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য কিছু শাসকদলীয় কর্মীর প্রশংসা করলেও, অন্য একটি অংশকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি। সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত ভাঙড়ে নিজের প্রভাব ও সংগঠন শক্তির জোরেই বড় জয় তুলে নিলেন নওশাদ—আরও একবার প্রমাণ করলেন, এই এলাকা এখনও তাঁরই দুর্গ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত