জোড়াসাঁকো কবির বাড়ি থেকে রাজ্যের শিক্ষা নিয়ে বড় বার্তা নতুন মুখ্যমন্ত্রীর

জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতিকরণ ও বহিরাগত দাপটের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন শপথ, আর তার পরেই জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে শিক্ষাঙ্গন নিয়ে বড় বার্তা দিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ক্ষমতায় এসেই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতির প্রভাব কমানো এবং ‘বহিরাগতদের দাপট’ রুখতে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিল বিজেপি সরকার। জোড়াসাঁকোয় শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে শুভেন্দুর মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলের জোর চর্চা।

বঙ্গজয়ের পর ২৫ বৈশাখকেই শপথগ্রহণের জন্য বেছে নিয়েছিল বিজেপি। অনুষ্ঠান শেষে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছন জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে। বিশ্বকবি-কে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিচিত্রা ভবনে বেশ কিছুক্ষণ শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক শিক্ষক।

বৈঠকে শুভেন্দু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতিকরণের বিরুদ্ধে। বিশেষত বহিরাগতদের দাপট কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” তাঁর এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ গত এক দশকে রাজ্যের একাধিক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি ঘিরে অশান্তি, দখলদারি, শিক্ষক হেনস্থা এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ে বারবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের-এর বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জোর করে ইউনিয়ন দখল, প্রতিবাদী পড়ুয়াদের হেনস্থা এবং শিক্ষক-অধ্যাপকদের উপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে বহুবার। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে কিছু তৃণমূল নেতার রবীন্দ্র ভারতী ক্যাম্পাসে প্রবেশও নিষিদ্ধ হয়েছিল বলে জানা যায়।

শুধু রাজনৈতিক বার্তাই নয়, শিক্ষার পরিবেশ ফেরানো এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও আশ্বাস দিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, জাতীয় শিক্ষানীতির যথাযথ বাস্তবায়ন হয়নি বলেও বৈঠকে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি নতুন ভবন, আধুনিক ক্লাসরুম, গবেষণাগারের উন্নয়ন এবং আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেন।

যদিও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি উপাচার্য। তবে বৈঠকে উপস্থিত এক অধ্যাপকের বক্তব্য, নতুন সরকারকে সময় দিতে চান তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী যে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন, তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এখন সেটাই দেখার।

শিক্ষাঙ্গনে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তাপের আবহে শুভেন্দুর এই বার্তা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। এখন নজর, কথার সঙ্গে কাজের ফারাক কতটা কমাতে পারে নতুন সরকার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত