মমতার জোট আহ্বানে সাফ ‘না’ সেলিমের, বিজেপি বিরোধিতায় দূরত্বেই সিপিএম

বিজেপি বিরোধী বৃহত্তর জোট গঠনের ডাক দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগ তুলে সেই প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করল সিপিএম।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিজেপির নতুন সরকার গঠনের দিনেই বিরোধী ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই আহ্বানে কার্যত দরজা বন্ধ করে দিল সিপিএম। তৃণমূল নেত্রীর প্রস্তাব পত্রপাঠ খারিজ করে রাজ্যের সিপিএম সম্পাদক মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “না, একদম না।” ফলে বিজেপি বিরোধী বৃহত্তর মঞ্চ তৈরির সম্ভাবনা শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

শনিবার শুভেন্দু অধিকারী ব্রিগেড ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই রাজনৈতিক পাল্টা লড়াইয়ের বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে নিজের বাড়ির সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতে বাম, অতিবাম-সহ সমস্ত বিরোধী শক্তিকে এক মঞ্চে আসতে হবে।

কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই প্রস্তাব উড়িয়ে দেয় সিপিএম। ফেসবুকে লিখিত বিবৃতি দিয়ে সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্ব জানায়, “অপরাধী, তোলাবাজ, দুর্নীতিগ্রস্ত এবং সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের কাউকে এই লড়াইয়ে জায়গা দেওয়া হবে না।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে তৃণমূলকেই নিশানা করেছে আলিমুদ্দিন।

সিপিএমের তরুণ নেতৃত্বও এই অবস্থানকে সমর্থন করেছে। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের প্রাক্তন ছাত্রনেতা সুপ্রিয় চন্দও মমতার এই প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি বিরোধিতার নামে আদর্শগত বিরোধ ভুলে জোটের রাজনীতি মানুষের কাছে ভুল বার্তা দেবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিরোধী অবস্থানে থাকাকালীন বিভিন্ন সময়ে জোট রাজনীতির পথ নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সালে বামফ্রন্ট সরকারকে সরাতে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল তৃণমূল। এবার বিজেপিকে মোকাবিলায় সেই বামেদেরই পাশে চাইছেন তিনি। এমনকি অতিবাম দলগুলিকেও একসঙ্গে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সিপিএম যে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে একচুলও সরতে রাজি নয়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মহম্মদ সেলিম। তাঁর বক্তব্য, দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূলের সঙ্গে কোনওভাবেই যৌথ আন্দোলনে নামা সম্ভব নয়।

ফলে রাজ্যে বিজেপি বিরোধী বৃহত্তর জোটের সম্ভাবনা আপাতত ধাক্কা খেল বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, বিরোধী ভোট একত্রিত না হলে আগামী দিনে বিজেপির বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াই গড়ে তোলা কতটা সম্ভব হবে?

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত