পাঁচ দিনের টানটান নাটকের অবসান, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিজয় থালাপতি

পাঁচ দিনের রাজনৈতিক নাটকের পর তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন থালাপতি বিজয়। সমর্থনে ভিসিকে, আইইউএমএল, কংগ্রেস ও বাম বিধায়করা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

টানা কয়েক দিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন, জোটভাঙা-জোটগড়া আর সংখ্যার অঙ্কের লড়াইয়ের পর অবশেষে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন অভিনেতা-রাজনীতিক থালাপতি বিজয়। রাজ্যের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে ডিএমকে ও এডিএমকে-র বাইরে প্রথম শক্তি হিসেবে ক্ষমতায় এল তাঁর দল টিভিকে। চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে আয়োজিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও।

১৯৬৭ সাল থেকে তামিলনাড়ুর ক্ষমতা মূলত ডিএমকে এবং এডিএমকে-র হাতেই ঘুরেছে। সেই রাজনৈতিক সমীকরণ ভেঙে এবারের নির্বাচনে বড় চমক দেয় বিজয়ের দল টিভিকে। ১০৮টি আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের সংখ্যা প্রথমে ছিল না তাদের হাতে। ফলে সরকার গঠন ঘিরে শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক নাটক।

দু’বার সরকার গঠনের দাবি জানালেও প্রথমে রাজ্যপাল আর এন রবি বিজয়কে অনুমতি দেননি বলে সূত্রের খবর। এরই মধ্যে সরকার গঠনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে সক্রিয় হয়ে ওঠে ডিএমকে-ও। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয় এডিএমকে-ডিএমকে সমীকরণ নিয়েও। এমনকি ভিসিকে প্রধান থোল তিরুমাভালাভানকে সামনে রেখে বিকল্প জোট তৈরির চেষ্টার খবরও সামনে আসে।

কিন্তু শেষ মুহূর্তে নাটকীয় মোড় নেয় পরিস্থিতি। শনিবার ভিসিকে এবং আইইউএমএল আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজয়ের দলকে সমর্থনের ঘোষণা করে। তার আগেই কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়ক এবং চার জন বাম বিধায়কও টিভিকে-র পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ফলে ম্যাজিক ফিগার পেরিয়ে যায় বিজয় শিবির।

সমর্থনকারী বিধায়কদের চিঠি নিয়ে রাজ্যপালের কাছে যান বিজয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ পাওয়ার পর তাঁকে সরকার গঠনের আহ্বান জানান রাজ্যপাল। সেই মতো রবিবার শপথ নেন তিনি। তাঁর সঙ্গে আরও ৯ জন টিভিকে নেতা মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

শপথমঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধীও। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই উপস্থিতি দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে বিরোধী জোট রাজনীতির নতুন বার্তা বহন করছে।

বর্তমানে বিজয়ের হাতে ১২০ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে স্থিতিশীল সরকার গঠনের পথ অনেকটাই মসৃণ হয়েছে। তবে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ছাড়া নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে রাজ্য পরিচালনা কতটা সফলভাবে করতে পারেন বিজয়, সেটাই দেখার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত