মমতা সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা কত? কী কী চ্যালেঞ্জ শুভেন্দু কাছে

৭.৭১ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ, শিল্পে মন্দা, কর্মসংস্থানের সঙ্কট ও পরিকাঠামোর জট— নতুন বিজেপি সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রেখে গেল বিদায়ী তৃণমূল সরকার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পনেরো বছরের শাসনের পর বাংলায় ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন সরকারের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে সামনে আসছে একাধিক আর্থিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের হিসাব। নতুন মুখ্যমন্ত্রী

শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— বিপুল ঋণের বোঝা, শিল্পে মন্দা, কর্মসংস্থানের সঙ্কট এবং পরিকাঠামোগত জট কাটিয়ে বাংলা কি নতুন পথে এগোতে পারবে?

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা রাজ্যের ঋণ। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, বিদায়ী সরকার প্রায় ৭.৭১ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা রেখে গিয়েছে। একসময় বাম সরকারের বিরুদ্ধে ঋণের ভার চাপানোর অভিযোগ তুলে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল। এবার সেই একই প্রশ্নের মুখে পড়ল বিদায়ী সরকারও। অর্থনীতিবিদদের মতে, এত বিপুল ঋণের কারণে নতুন সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং আর্থিক পরিকল্পনায় বড় চাপ তৈরি হতে পারে।

দারিদ্র্যের ছবিও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। রঙ্গরাজন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে রাজ্যে প্রায় ১১.৮৯ শতাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নীচে ছিলেন। যদিও এই হিসাব নিয়েই বিতর্ক রয়েছে। কারণ, শহরে দিনে ৪৭ টাকা এবং গ্রামে ৩২ টাকা খরচের ভিত্তিতে দারিদ্র্য নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠেছে।

শিল্পের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি খুব উজ্জ্বল নয় বলেই মনে করছে প্রশাসনের একাংশ। রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে একাধিকবার বিজনেস সামিটের আয়োজন করা হয়েছিল। দেশ-বিদেশের শিল্পপতিরাও উপস্থিত ছিলেন সেই মঞ্চে। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, গোটা দেশে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলার অংশ মাত্র ০.৬ শতাংশ। পাশাপাশি গত কয়েক বছরে প্রায় সাত হাজার সংস্থা রাজ্য ছেড়েছে বলেও দাবি সূত্রের।

জমি অধিগ্রহণ ইস্যুতেও নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কেন্দ্রীয় সূত্রে দাবি, রেলের সম্প্রসারণ-সহ একাধিক পরিকাঠামো প্রকল্প জমির অভাবে আটকে রয়েছে। রেলের প্রয়োজন ছিল প্রায় ৪,৫৬৪ হেক্টর জমি, অথচ তার মাত্র ২৭ শতাংশ জমি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়াও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ ধীরগতিতে চলছে বলেও দাবি উঠেছে।

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ বাড়ছে। কাজের খোঁজে বাংলার বহু মানুষ এখনও ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ২২ লক্ষ। যদিও বেসরকারি অনুমান সেই সংখ্যা ৫০ লক্ষেরও বেশি বলে দাবি করছে। কেরল, গুজরাট, তামিলনাড়ু বা দিল্লির মতো রাজ্যে বাংলার শ্রমিকদের উপস্থিতি ক্রমশ বাড়ছে।

ফলে নতুন সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা— এই পরিসংখ্যান বদলানো। ঋণের বোঝা কমানো থেকে শিল্পে বিনিয়োগ টানা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি থেকে পরিকাঠামো উন্নয়ন— সব ক্ষেত্রেই দ্রুত ফল দেখানোর চাপ থাকবে নতুন প্রশাসনের উপর। রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলার অর্থনীতি ও প্রশাসনের ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত