চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে খুনে ব্যবহার হয়েছে অস্ট্রিয়ায় তৈরি অত্যাধুনিক গ্লক ৪৭ এক্স পিস্তল— যা সাধারণ অপরাধীদের হাতে থাকার কথা নয় বলেই দাবি গোয়েন্দাদের। এই অস্ত্র কীভাবে আততায়ীদের হাতে এল, তা ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন। শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, সীমান্তপারের অস্ত্রচক্র, জাল পাসপোর্ট নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক নাশকতার সম্ভাবনাও এখন খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
তদন্তকারীদের একাংশের মতে, এই হত্যাকাণ্ড কোনও তাৎক্ষণিক আক্রোশের ফল নয়। বরং গোটা অপারেশনটি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করা হয়েছিল। চন্দ্রনাথ রথকে যে জায়গায় টার্গেট করা হয়, সেটি সিসিটিভি নজরদারির বাইরে। তাঁর যাতায়াতের নির্দিষ্ট সময়, রুট এবং নিরাপত্তা সম্পর্কে আগে থেকেই স্পষ্ট ধারণা ছিল আততায়ীদের কাছে। সেই কারণেই গোয়েন্দাদের অনুমান, অন্তত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলেছিল রেকি।


সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে গ্লক ৪৭ এক্স পিস্তলের উপস্থিতি। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ভারতে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে ব্যবহৃত হয়। সাধারণ বাজারে তা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। ফলে অস্ত্রটি কীভাবে এ দেশে ঢুকল এবং কার মাধ্যমে খুনিদের হাতে পৌঁছল, সেটাই এখন তদন্তের মূল ফোকাস।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর, বাংলাদেশ সীমান্তকে ব্যবহার করে কোনও আন্তর্জাতিক অস্ত্রচক্র বা শত্রুদেশের মদত ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার হওয়া বেশ কয়েকটি আধুনিক বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের তালিকায় গ্লক সিরিজের অস্ত্রও ছিল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্রের মাধ্যমেই এ ধরনের অস্ত্র ভারতে ঢুকছে।
গোয়েন্দাদের অনুমান, এই হত্যাকাণ্ডে পেশাদার সুপারি কিলার ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। উত্তরপ্রদেশ কিংবা বাংলাদেশ-সংলগ্ন কোনও নেটওয়ার্কের সঙ্গে আততায়ীদের যোগ ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। অতীতে সীমান্তপারের জঙ্গি সংগঠন এবং অপরাধচক্র যেভাবে এ রাজ্যকে ‘সেফ করিডর’ হিসেবে ব্যবহার করেছে, সেই পুরনো তথ্যও ফের খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


ঘটনাস্থল মধ্যমগ্রাম দীর্ঘদিন ধরেই জাল পাসপোর্ট চক্রের জন্য পরিচিত। ফলে বহিরাগতদের গা-ঢাকা দেওয়া বা সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয় নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দিকটিও পুরোপুরি বাদ দেওয়া হচ্ছে না। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট তত্ত্বে পৌঁছতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ড এখন শুধু একটি রাজনৈতিক খুনের তদন্ত নয়, বরং সম্ভাব্য বড়সড় আন্তর্জাতিক যোগসূত্রের রহস্যভেদেও পরিণত হয়েছে। আর সেই কারণেই এই মামলার প্রতিটি সূত্র অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।







