বিজেপির একাংশকে ‘কুলাঙ্গার’ বললেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, ‘চিকেন প্যাটিস’ কাণ্ডে তীব্র শ্লেষ সাংসদের

চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধরের ঘটনায় নাম না করে দলের একাংশকে নিশানা তমলুকের সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের। দল থেকে বহিষ্কারের দাবি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

‘চিকেন প্যাটিস’ কাণ্ডে বিজেপির অন্দরে ফের বেসুরো সুর। তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন নিজের দলেরই একাংশের বিরুদ্ধে। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাম না করেই অভিযুক্তদের উদ্দেশে ‘কুলাঙ্গার’, ‘নিম্ন রুচি’ এবং ‘ক্লাস ফোরের বিদ্যা নেই’—এই ভাষায় তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরের দ্বন্দ্ব যে গভীর হচ্ছে, তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলল অভিজিতের বক্তব্যে। যেখানে দলের একাংশ অভিযুক্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে, সেখানে অভিজিত সরাসরি তাঁদের দল থেকে বহিষ্কারের দাবি তুললেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—কার দিকে ইঙ্গিত সাংসদের?

‘খেটে খাওয়া মানুষকে মারধর—এটা রাজনীতি হতে পারে না’

সংবাদমাধ্যমকে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন,
“যারা এসব করে বেড়াচ্ছে, এই সব কুলাঙ্গার…”—বাক্য অসম্পূর্ণ রেখেই থামেন তিনি। দৃশ্যত বিরক্ত সাংসদ এরপর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন,
“আমি কুলাঙ্গার বলতেই বাধ্য, কারণ দেখলাম অভিযুক্তদের মধ্যে বিজেপিরই একাংশ রয়েছে। একজন খেটে খাওয়া মানুষ মাথায় করে খাবারের বাক্স নিয়ে ঘোরেন। সেটাই তাঁর রোজগারের উপায়। সেই মানুষটাকে মারধর করা হচ্ছে, তাঁর বাক্স ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, পুঁজিটাই নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে—এটার কোনও ক্ষমা নেই।”

তিনি আরও বলেন, দরিদ্র মানুষের কায়িক শ্রমের প্রতি কোনও সহানুভূতি না থাকলে সেই রাজনীতি ‘নিম্ন রুচির’ বলেই গণ্য হওয়া উচিত।

‘ডিগ্রি থাকলেও ক্লাস ফোরের বিদ্যা নেই’

নাম না করে দলের একাংশকে কটাক্ষ করে অভিজিত বলেন,
“হয়তো অনেক ডিগ্রি আছে, কিন্তু বিদ্যা ক্লাস ফোরের চেয়েও এগিয়েছে বলে মনে হয় না। যারা দরিদ্র মানুষের উপার্জনের পথ নষ্ট করে, তারা রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার হারায়।”

এই ঘটনায় যুক্ত সকলকে অবিলম্বে দল থেকে বিতাড়িত করার দাবিও জানান তিনি।

কী এই ‘চিকেন প্যাটিস’ কাণ্ড?

প্রসঙ্গত, ব্রিগেডে গীতাপাঠের দিন এই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ ওঠে, গীতাপাঠের মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানের দিনে ব্রিগেডে কেন চিকেন প্যাটিস বিক্রি হবে—এই প্রশ্ন তুলে দুই বিক্রেতাকে মারধর করা হয়। কিল-চড়-ঘুষির পাশাপাশি একজন বিক্রেতাকে কান ধরে ওঠবস করতেও বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ।

ঘটনার পর প্যাটিস বিক্রেতা শেখ রিয়াজুল ও মহম্মদ সালাউদ্দিন ময়দান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ এফআইআর রুজু করে এবং তিনজনকে গ্রেফতারও করা হয়। যদিও পরে তাঁরা জামিন পান।

শুভেন্দুর ভূমিকা নিয়ে দ্বন্দ্ব আরও তীব্র

ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। অন্যদিকে, রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযুক্তদের পক্ষে সওয়াল করেন। এমনকি ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের জন্য বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের কথাও বলেন তিনি। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন।

এই অবস্থান থেকেই বিজেপির অন্দরে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়। শুভেন্দু যেখানে অভিযুক্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, সেখানে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় তাঁদের বহিষ্কারের দাবি তুলছেন।

ইঙ্গিত কার দিকে? জল্পনা রাজনৈতিক মহলে

অভিজিৎ কার দিকে ইঙ্গিত করেছেন—এই প্রশ্নেই এখন জোর চর্চা রাজনৈতিক মহলে। উল্লেখ্য, তমলুকের সাংসদ এর আগেও নিজের দলের স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সরব হয়েছেন। এবার তাঁর নিশানায় ঠিক কারা—তা নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক কাটাছেঁড়া।

চিকেন প্যাটিস কাণ্ড বিজেপির অন্দরে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব উসকে দিল। তমলুকের সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের তীব্র ভাষা ও বহিষ্কারের দাবিতে স্পষ্ট—এই ইস্যুতে দলের ভিতরের ফাটল আরও গভীর হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন 2026 - RESULTS ● LIVE
মোট আসন: 294 (গণনা: 293)
গণনা শুরু হতে বাকি:
Majority: 148/294

গণনা চলছে

0/293
এগিয়ে ➡
TMC 0
BJP 0
LEFT+ISF 0
INC 0
OTHERS 0

ফল প্রকাশিত

0/293
জয়ী ➡
TMC 0
BJP 0
LEFT+ISF 0
INC 0
OTHERS 0
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত